নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় © সংগৃহীত
নরসিংদীতে এইচএসসি পরীক্ষার দুটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে ছয় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানান। পরে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে সঠিকটি দেওয়া হয়। তবে তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব প্রফেসর নাছিমা আক্তার বলেন, ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই উপকেন্দ্রে প্রায় ৬০০ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
অন্যদিকে, মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রেও ভুল এমসিকিউ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এই কেন্দ্রে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী নতুন সিলেবাসের নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে বাংলা প্রথম পত্রের ‘খ’ সেটের ১২১ কোডের ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেয়।
মনোহরদী সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, পরীক্ষা চলাকালে আমরা বিষয়টি বুঝতে পারেনি। পরে বাড়ি ফিরে উত্তর মিলিয়ে দেখার সময় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। এখন ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। ফলে এ রকম হওয়ার সুযোগ খুবই কম। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বরত শিক্ষকদের ভুলেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।