প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় অনিশ্চিত ১৫০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ PM , আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ PM
১৫০ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

১৫০ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত © টিডিসি ফটো

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চরম অবহেলা ও গাফিলতিতে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে ছবি থেকে শুরু করে নাম, বিভাগ সবকিছুতেই ধরা পড়েছে গুরুতর ভুল। 

আগামী বুধবার সারা দেশে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল এসব শিক্ষার্থীর। কিন্তু ভুল ভর্তি প্রবেশপত্র পেয়ে এখন তারা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। অনেকে এখনও হাতে পাননি প্রবেশপত্র।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ২১২ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৮ জন ও মানবিক বিভাগে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। সম্প্রতি প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হলে ধরা পড়ে অসংখ্য ভুল।

কয়েক দিন আগে উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র হাতে তুলে দিলেও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পান বিপর্যয় ডেকে আনা ভুল ভর্তি কাগজ।

অভিযোগ উঠেছে, কারও অ্যাডমিট কার্ডে মায়ের নামের জায়গায় বাবার নাম লেখা, আবার কারও বাবার জায়গায় মায়ের নাম। ছেলে শিক্ষার্থীর ছবির জায়গায় বসানো হয়েছে মেয়ের ছবি। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে ছাপা হয়েছে মানবিক বিভাগ। আরও আশ্চর্যের বিষয়, অনেক শিক্ষার্থী এখনও পাননি তাদের প্রবেশপত্র। সব মিলিয়ে সমস্যায় পড়েছেন প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার, অন্য শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতা না নিয়ে বাইরের একটি কম্পিউটার দোকান থেকে ফরম পূরণের কাজ করান। এতেই ঘটেছে এই বড় ধরনের বিপর্যয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক রায়হান সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাকা থেকে বঞ্চিত করতেই একা বাইরের কম্পিউটার দোকানে কাজ করতে গিয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। শিক্ষকদের কাছ থেকে ফরম পূরণের বরাদ্দকৃত টাকা নিয়েও তাদের দিয়ে কাজ করাননি বলে অভিযোগ।

ভুলে ভরা প্রবেশপত্রের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে ভিড় জমান। বিদ্যালয়ের মাঠে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এত দিন পরিশ্রম করার পর পরীক্ষার আগে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে তা কেউ কল্পনাই করতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমাদের পরীক্ষা দিতে পারব কি না, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। প্রধান শিক্ষক সমস্যা সমাধান করবেন বলছেন, কিন্তু এখনও কিছুই হয়নি। তিন দিন পর পরীক্ষা, আমরা আতঙ্কে আছি।’

এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলের অ্যাডমিট কার্ডে অন্য কারও ছবি। এখন কী হবে? সে কি পরীক্ষা দিতে পারবে? শিক্ষকরা তো আমাদের নিয়ে তামাশা করেছেন।’

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার কারণেই ভুল হয়েছে। আমি সমাধান করে দেব। একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা থেকে বাদ পড়বে না। সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাউকে টেনশন করতে হবে না।

এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরে শিক্ষা বোর্ডেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি ১৮ জন শিক্ষার্থীর সমস্যা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনের সমাধান হয়েছে। বাকিদের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।

অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই বিষয়টি গতকাল জেনেছি। ওই বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থী যেন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আজ সকালে নতুন অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার্থীরাও আজ তাদের অ্যাডমিট কার্ড পেয়ে যাবে।

ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও গবেষক রাজিয়া সুলতানার মৃত্যুতে …
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
সিটি ব্যাংক নিয়োগ দেবে অফিসার, আবেদন শেষ ২৭ এপ্রিল
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি, টেকনাফে ৩ মানব পাচারকারী আটক
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও বৈশাখী ভাতা নিয়ে যা জানা …
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে কুয়াকাটায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল, পুণ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে জার্মান রেড ক্রস, আবেদন শেষ ২৯ এ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬