সালমান শাহের মৃত্যুতে জড়িয়ে প্রচারণা, অবশেষে মুখ খুললেন শাবনুর

২৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:০৫ PM , আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:১৪ PM
সালমান শাহ ও শাবনূর

সালমান শাহ ও শাবনূর © সংগৃহীত

ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত অবশেষে হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা শহরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দিয়েছেন। মামলাটিকে রমনা থানায় তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এবার সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী শাবনূর। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার মৃত্যু নিয়ে কথা বলেন। যদিও এর আগের প্রয়াত এই নায়কের মৃত্যু নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন এই অভিনেত্রী।

আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, আবারো সালমান শাহ প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু কথা! ২৯ বছর আগে কিংবদন্তী নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালীন আমি সংবাদমাধ্যমের খবরে এ বিষয়ে অবহিত হয়েছি।

এ অভিনেত্রী লেখেন, অনেকেই এ বিষয়ে আমার মন্তব্য জানতে চাইছেন। তবে যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই শুরুতে এ নিয়ে কথা বলতে চাইনি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি, কিছু ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে সালমান শাহ সংক্রান্ত এ মামলার সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভ্রান্ত প্রচার ছড়াচ্ছেন। আমার সম্পর্কে ভিত্তিহীন এসব গুজব ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সবাইকে অনুরোধ করছি সত্যতা বিবর্জিত ও ভ্রান্ত তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকুন। সালমান শাহ ছিল আমার অত্যন্ত প্রিয় সহ-অভিনেতা। আমরা একসঙ্গে প্রায় ১৪টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। সালমান ছিল একজন জনপ্রিয়, অসাধারণ শক্তিমান এবং প্রতিভাবান অভিনেতা। নিঃসন্দেহে বলতে পারি তার সঙ্গে কাজ করে আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার বিকশিত ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, সালমান শাহর অকাল মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। আমাদের জুটির সাফল্য একসময় অনেকের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার মৃত্যুর পর কেউ কেউ হয়তোবা নিজেদের বাঁচাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে। আমাদের নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে, যা আমাকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। তবে আজও আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই — সালমান শাহ কিভাবে মারা গেছে তা আমি সত্যিই জানি না। আমি শুধু তাঁর মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। যে-ই দোষী হোক না কেন, তাকে যেন আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়— এটাই আমার একান্ত দাবি ও প্রত্যাশা।

শাবনূর লেখেন, সন্তান হারানোর বেদনা যে কত কষ্টের তা সালমানের মা নীলা আন্টির আহাজারি দেখলেই অনুভব করতে পারি। আমি আন্টি এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছি এবং সর্বোপরি সালমান শাহর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

সবশেষে তিনি ২০২৩ সালে একটি পোস্টের লিংক যুক্ত করে লেখেন, ‘একটি পোস্টে সালমান শাহের সাথে আমাকে জড়িয়ে গুজবের জবাব দিয়েছিলাম।’ ‘প্রসঙ্গঃ মৃত সোহান আংকেলকে নিয়ে স্ট্যাটাস, তারপর অনেক আলোচনা-সমালোচনা!’ শিরোনামে লেখা ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, সফল মানুষদেরকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা বেশি হয়, হবে, এটাই স্বাভাবিক। গঠনমূলক সমালোচনা ভালো। কিন্তু সেই সমালোচনা যদি হয় তীব্র আক্রমণাত্মক, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর তখন তা গ্রহণযোগ্য নয়, তার প্রতিবাদ করা বা জবাব দেওয়া সমুচিত। গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল হিংসা ছড়াচ্ছেন, আমাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে যাচ্ছেন।

আসলে তাদের উদ্দেশ্য ভাইরাল হওয়া, শাবনূরকে নিয়ে কথা বললে ভাইরাল হওয়া সহজ। এতে করে অচল মালরা সচল হতে পারছেন, এবং তাদের ব্যবসাও রমরমা হচ্ছে বটে! যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষোদগার করে আমার মানহানী করছেন তারা আমার পর্যবেক্ষণে আছেন। ইতিমধ্যেই কিছু মন্দ লোককে চিহ্নিত করতে পেরেছি। এসব মানসিক বিকারগ্রস্তদের প্রবল নেতিবাচক ও অস্বাস্থ্যকর সমালোচনাকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ করা ও পায়ে কামড় দেওয়ার মতো মনে করি। আমার পক্ষে কুকুরের মতো খেপাটে আচরণ করা কি শোভা পায়? তারপরও আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়ানো কিছু পুরোনো মিথ্যা গুজব ও অপবাদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করি।

প্রয়াত সোহান সাহেবকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়ার পর অনেকেই বলে যাচ্ছেন কেন তার মৃত্যুর আগে আমার বিরুদ্ধে যা বলে গেছেন তা নিয়ে কথা বলিনি, এতে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকত। আমি জানি সেটা করলে আরও ভালো হতো। কিন্তু উনার সর্বশেষ সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর এক সপ্তাহের মতো তিনি বেঁচে ছিলেন। তাছাড়া তার মৃত্যুর ৩/৪ দিন পূর্বে খবর পেলাম তিনি জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই আংকেল জীবিত থাকা অবস্থায় এ বিষয়ে কথা বলার সুয়োগ পাইনি। কিন্তু দেখেন, তিনি মারা যাবার কিছুদিন আগেও একবার তার আরেকটি ইন্টারভিউয়ের বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে উনার সাথে কথা বলেছি। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার তিনি আবারও আমাকে ও মৃত সালমান শাহকে জড়িয়ে যে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গেলেন তার জবাব আমাকে আজ হোক কিংবা দু’দিন পর দিতেই হতো, না হয় একটা ভুল বোঝাবুঝি থেকেই যেতো, কেউ সত্যটা জানতো না।

সোহান আংকেল শেষ সাক্ষাৎকারে বলে গেলেন, প্রেম প্রিয়াসী ছবির ডাবিং ফ্লোরে আমি নাকি সালমান শাহকে বারবার ডিস্টার্ব করতে ছিলাম এবং তার কানে কামড় দিয়েছি। তিনি ঘটনার বর্ণনা এমন নিখুঁতভাবে দিলেন, শুনলে মনে হবে তিনি তা স্বচক্ষে দেখেছেন। আসলে ঐ রাতে তিনি ডাবিং ফ্লোরেই ছিলেন না, কারন এটি তার সিনেমা ছিল না। আর সালমানের কানে কামড় দেওয়ার কাল্পনিক বিষয়টি উনিই এই প্রথম শোনালেন। তিনি আমার বিরুদ্ধে মনগড়া আরও অনেক অসত্য কথা বলে গেলেন, যা ভাইরাল হয়ে ঝড় তুলেছিলো মিডিয়ায়। তার এই ইন্টারভিউয়ের পর অনেকেই তা বিশ্বাস করে সালমানের মৃত্যুর জন্য আমাকে দায়ী করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে থাকেন। আমার বন্ধুবান্ধব ও ভক্তরা আমাকে চুপ করে না থেকে তার জবাব দিতে বলেন। একটু পিছনে ফিরে যাই, সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে ২০২০ সালে পিবিআইর প্রতিবেদনের পর এই সোহান সাহেবই বলেছিলেন, ’তাদের মধ্যে (সালমান শাহ, শাবনূর) বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল’ (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক )। কিন্তু তিনি কিছুদিন থেকে কোন উদ্দেশ্যে বা কাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন অসত্য ও মানহানীকর মন্তব্য মৃত সালমান শাহকে জড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে করেতেছিলেন তা আমার বোধগম্য নয়।

সালমান শাহ’র সঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ রাতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং ছিল। ডাবিং থিয়েটারে ছবির পরিচালক ও অনেক কলাকুশলী উপস্থিত ছিলেন। সালমানের সাথে বিশেষ কোন কিছু হয়ে থাকলে তারাই সবার আগে দেখতেন এবং এ নিয়ে মুখ খোলতেন। কিন্তু কেউ কি এত বছরে এ ব্যপারে কোথাও কোন কথা বলেছেন?

তদন্তকারী সংস্থা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রায় ২৪ বছর পর ২০২০ সালে সালমান শাহ আত্নহত্যা করেছেন বলে একটি প্রতিবেদন দেয়। সালমানের আত্মহত্যার পিছনে তারা বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে, এর মধ্যে অন্যায়ভাবে আমার সাথে তার প্রেম ছিল বলে উল্লেখ করে। পিবিআই জোড়াতালির একটি প্রতিবেদন দেয়, যেটা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। আমি প্রতিবেদন দেখার সাথে সাথে এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই, যা তখনকার প্রায় সব মিডিয়াতে এসেছে। আর পিবিআইর প্রতিবেদন যে মনগড়া ও ভিত্তিহীন তা উল্লেখ করে সালমানের মা, নীলা আন্টি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। উনি সব সময় বলে আসছেন তার ছেলে আত্মহত্যা করে নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আসলে আমি জানি না সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছে না তাকে হত্যা করা হয়েছে। সবার মতো আমিও চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু বিচার।

সবার উদ্দেশ্যে বরাবরের মতো আবারও বলতেছি, সালমান শাহর সঙ্গে আমার প্রেমের কোন সম্পর্ক ছিল না। ছবিতে একসাথে কাজ করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। সে ছিল আমার ভালো সহশিল্পী ও অকৃত্রিম বন্ধু। তার সাথে আমার ভাইবোনের সম্পর্ক ছিল। আমি অল্প বয়সী হওয়াতে সে আমাকে পিচ্চি বলে ডাকত। তাছাড়া সালমান শাহর মা, নীলা আন্টিও কোন দিন বলেননি তার ছেলের সাথে আমার প্রেমর সম্পর্ক ছিলো। সালমানের মৃত্যুর পর আমিই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। আমাদের জুটি ভাঙতে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও হিংসুটে মানুষ সারাক্ষণ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো। তারা কিছু হলুদ সাংবাদিকদের যোগসাজশে আমাদের নিয়ে আজেবাজে কথা ছড়াতো। আসলে সালমানের মৃত্যুর জন্য আমি ছিলাম সহজ টার্গেট, এসবই ছিল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, এই ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতারা নিজেদেরকে বাঁচাতে মিথ্যে বানোয়াট গল্প সাজিয়ে আমাকে ফাসাঁতে চেয়েছিলেন।

সোহান আংকেলকে নিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বরের পোষ্টকে কেন্দ্র করে যারা আমার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদগার ও হিংসা ছড়াচ্ছেন, তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার ভক্ত শ্রোতারাও তাদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। দেশ-বিদেশে আমার অগণিত ভক্ত শ্রোতা আছেন, তাদের উদ্দ্যেশে আমার অনুরোধ থাকবে, যাদের দ্বারা আপনারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের মতো অধম না হয়ে আপনারা অবশ্যই উত্তম হবেন। ধৈর্যসহকারে পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সংযত আচরণ করুন।

আশা করি আমার অবস্থানটা আবারও সবার কাছে ক্লিয়ার করতে পেরেছি। ইনশাল্লাহ, সত্যের জয় একদিন হবেই।

স্পেনের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড ওইয়ারজাবালের
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
পোরোর গোলে ফাইনালের আরও কাছে স্পেন
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
যে কারণে ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালন
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্সের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
দাদাকে গুলি করায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ নাতি গ্রেপ্তার
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি গোলে এগিয়ে গেল স্পেন
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence