জ্বালানি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনায় একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ১ শতাংশের বেশি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়া এবং তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এখনো বাজারে চাপ তৈরি করছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ২২ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১১৪ ডলার ১০ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ ডলার ৩৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৪৫ সেন্ট হয়। এর আগের দিন বুধবার ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ২৪ সেন্ট এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ১০১ ডলার ৫২ সেন্ট হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তির আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ। বুধবার মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া চুক্তি দিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবটির বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এতে এমন কিছু ধারণা রয়েছে, যা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা বলেছেন, শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার প্রত্যাশায় বাজারে তেল বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার আশঙ্কা থাকায় দাম কমার পরিমাণ সীমিত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা
শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা কাটেনি। বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আসছিল। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে জোটটি।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, বুধবার হুতিরা এডেন বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এর আগের দিন হুতিরা সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল। তবে শোধনাগারটিতে হামলার খবর সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের মতো বড় তেল উৎপাদক দেশের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে। এ ছাড়া ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
রাশিয়ার উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা
রাশিয়ার তেল পরিশোধন কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনাও বিশ্ববাজারে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে। জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে তেল পরিশোধনের পরিমাণ দৈনিক ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৪০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিশোধন কার্যক্রম বাড়লে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনও বাড়তে পারে। এর আগে রাশিয়ার তেল উৎপাদন দৈনিক ৮৪ লাখ ব্যারেলে নেমেছিল, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও রপ্তানি একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমেছে
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা ১৫ হাজার ব্যারেল মজুত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের মজুত ৩৯ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা যেখানে ৯ লাখ ব্যারেল মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, সেখানে উল্টো বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সূত্র: রয়টার্স