উচ্চগতির ২ ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৬৪ © সংগৃহীত
স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির টলেডো অঞ্চলের কাছে মোরার ও অর্গাজ শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় দুটি ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে অন্তত তিনটি বগি রেললাইনের পাশের ঢালু জায়গায় ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স, মরদেহ নেওয়ার জন্য গাড়ি ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ট্রেন থেকে নেমে আসা যাত্রীদের অনেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়ক ধরে হেঁটে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন। কারও শরীরে ছিল ব্যান্ডেজ, আবার কেউ লাগেজ টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আশপাশের শহর থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁদের পানি সরবরাহ করেন।
দুর্ঘটনার সময় একটি ট্রেনের পেছনের বগিতে থাকা মিগুয়েল নামের এক যাত্রী জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রচণ্ড গর্জনের মতো শব্দ শুনেছিলাম। প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে ভয়াবহ একটি ধাক্কার শব্দ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হতে যাচ্ছে। ডান পাশের জানালা দিয়ে আমরা একটি বিধ্বস্ত ট্রেন দেখতে পাই।’
এদিকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বেসরকারি কনসোর্টিয়াম ইরিও পরিচালিত একটি ট্রেন সংকেত ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে টলেডোর কাছে থেমে ছিল। রেল অবকাঠামো ব্যবস্থাপক আদিফের নির্দেশে ট্রেনটি থামানো হয়েছিল বলে দুর্যোগ সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্র জানিয়েছে। পরে রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফে পরিচালিত আরেকটি দ্রুতগতির ট্রেন স্থির থাকা ইরিওর ট্রেনটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি ট্রেনেরই কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
রেনফে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলাচলের অনুমতি পাওয়ার পর তাদের ট্রেনটি যাত্রা অব্যাহত রেখেছিল। এরপর স্থির থাকা ইরিওর ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তবে ট্রেনটি কী কারণে থেমে ছিল, তা তাদের জানা নেই। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, রেল চলাচলের পরিস্থিতি এবং সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট বিবরণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে ইরিও ও আদিফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চলতি বছর ঘটে যাওয়া এটি স্পেনের দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা। গত জানুয়ারিতে একই রেলপথে আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। পরপর এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় দেশটির রেল নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।