চুতি নামের বিড়ালটি হারিয়েছিল © সংগৃহীত
মানুষ যেসব পশুকে পোষ মানিয়ে নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম বিড়াল। সাম্প্রতিক সময়ে বিড়ালপ্রেমী মানুষের সংখ্য বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বিড়াল হারানোর সংখ্যাও। ঠিক তেমনই একটি বিড়াল হারানোর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে নেটদুনিয়ায়। সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো ১০ দিন আগে হারানো বিড়ালটি শেষপর্যন্ত পাওয়া গেছে বিশ্বের ব্যস্ততম দুবাই বিমানবন্দরে। খবর গালফ নিউজের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হারিয়ে যাওয়ার ১০ দিন পর খোঁজ মিলেছে চুতি নামের একটি বিড়ালের। প্রিয় পোষা প্রাণীটির সন্ধান পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে তার মালিক শ্রীলঙ্কার নাগরিক অবিশকা কৌমাদির মনে। তবে বিড়ালটিকে নিরাপদে শ্রীলঙ্কায় ফিরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি তার।
চুতিকে খুঁজে পাওয়ার খবর জানিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন কৌমাদি। বিড়ালটির সন্ধানে সহযোগিতা করায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, দুবাই বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান ডিএনএটিএ এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে কৌমাদি লেখেন, প্রিয় চুতিকে খুঁজে পাওয়ার পর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বিড়ালটিকে নিরাপদে শ্রীলঙ্কায় ফিরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও তার সন্ধান পাওয়ার খবর নতুন করে আশা ও সাহস জুগিয়েছে তাকে।
দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও নির্ঘুম রাতের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, কয়েক দিনের যন্ত্রণা ও উৎকণ্ঠার পর এই খবর তার মনে আবার আশার আলো জ্বালিয়েছে। চুতিকে খোঁজতে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা তার আবেদন ছড়িয়ে দিয়েছেন, ফোন করেছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং বিড়ালটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রার্থনা করেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কৌমাদি।
যেভাবে হারিয়ে যায় চুতি
গত ১১ অক্টোবর রাত ১১টায় দুবাই থেকে শ্রীলঙ্কাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল কৌমাদির। বিড়ালটিকে কার্গো হিসেবে পরিবহনের জন্য তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান।
কৌমাদির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চুতিকে পরীক্ষা করা হয়। এরপর নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে বিড়ালটিকে আবার তার ক্যারিয়ারে রাখা হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা ২৫ মিনিটের মধ্যে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ইমিগ্রেশন শেষ করে ডিউটি-ফ্রি এলাকায় যাওয়ার পর বিমান সংস্থার এক কর্মীর ফোন পান তিনি। তাকে জানানো হয়, ক্যারিয়ার থেকে বেরিয়ে পালিয়েছে চুতি। খবরটি পেয়েই বিড়ালটিকে খুঁজতে আগের জায়গায় ফিরে যেতে চান কৌমাদি। তবে এ জন্য অনুমতি প্রয়োজন বলে তাকে জানানো হয়।
বিড়ালটিকে রেখে শ্রীলঙ্কায় যাবেন কি না, জানতে চাইলে কৌমাদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চুতিকে ছাড়া তিনি বিমানে উঠবেন না।
মধ্যরাতের দিকে একজন কর্মীর সঙ্গে কার্গো এলাকায় গিয়ে বিড়ালটির খোঁজ করেন তিনি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চুতিকে ডেকে এবং নানা উপায়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্ধকার ও পর্যাপ্ত আলোর অভাবে অনুসন্ধান কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিড়ালটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে কৌমাদিকে আবার বোর্ডিং এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার থাকার জন্য একটি কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রিয় পোষা প্রাণীটির সন্ধানে তিনি বিমানবন্দরে প্রায় ২৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা
১২ অক্টোবর আবারও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান কৌমাদি। বিড়ালটির খোঁজ নেওয়ার একপর্যায়ে তাঁকে সাদা রঙের আরেকটি বিড়াল দেখানো হয়। তবে সেটি চুতি নয় বলে নিশ্চিত করেন তিনি। কৌমাদির ভাষ্য, বিড়ালটির সন্ধান অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে তাকে শ্রীলঙ্কায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে যোগাযোগের জন্য তাঁর তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়।
সেদিন সন্ধ্যায় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা দলের এক প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। চুতিকে খুঁজে পাওয়া গেলে কীভাবে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। কৌমাদির দাবি, ওই প্রতিনিধি তাকে জানান, প্রয়োজন হলে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগলেও বিড়ালটিকে শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব।
অবশেষে চুতির সন্ধান পাওয়ার খবর এলেও মালিকের সঙ্গে তার পুনর্মিলন এখনো বাকি।
‘তোমার মা বাড়িতে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে’
কৌমাদির কাছে চুতি শুধু একটি পোষা প্রাণী নয়; পরিবারের সদস্যও। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, চুতি তার প্রিয় সন্তান, পরিবার এবং হৃদয়ের একটি অংশ। তাকে ছাড়া কাটানো দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সময়গুলোর মধ্যে অন্যতম।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় থাকা কৌমাদি অপেক্ষা করছেন, কবে নিরাপদে চুতিকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। তিনি লেখেন, তার কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত হলো—প্রিয় চুতিকে আবার বুকে জড়িয়ে ধরে তার নিজের ঘরে ফিরিয়ে নেওয়া।
পোস্টের শেষে বিড়ালটির উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দেন তিনি, ‘সেই দিন না আসা পর্যন্ত আমার হৃদয় তোমার অপেক্ষায় থাকবে, চুতি। তোমার মা তোমাকে বাড়িতে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।’