হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্য © সংগৃহীত
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য। সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আকাশপথে হামলা ঠেকাতে এ প্রতিরক্ষা মিশনের অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। খবর বিবিসির
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) লিখিত বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, ‘এই বিমানগুলো প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করবে এবং হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক হামলা চালাবে না।’
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের হামলার পর যুক্তরাজ্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। সৌদি আরব ওই সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। চলতি মাসের ১০ ও ১১ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি হামলার দায় স্বীকার করে হুথিরা। ওই হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে। টাইফুন যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সৌদি আরবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহনে সহায়তার জন্য সামরিক উপদেষ্টা এবং আরএএফের একটি এ৪০০এম পরিবহন বিমানও পাঠাবে যুক্তরাজ্য।
আকাশপথের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দেশটির প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ জ্বালানি সরবরাহের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছে।
আলাদা এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা ‘দেখিয়ে দিয়েছে, অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে হুথিরা কত দূর যেতে প্রস্তুত’।
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই আজ আমি যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আরও সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছি।’ স্ট্রিটিং বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সহিংসতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ও বাড়ছে।
চলতি মাসের শুরুতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের গভীরে ‘ক্রমবর্ধমান অভিযান’ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।