জেন-জি আন্দোলনে দেশত্যাগ করা নেপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেন

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২২ PM
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা © সংগৃহীত

জেন-জি আন্দোলনে দেশত্যাগ করা ও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কার মধ্যে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশে ফিরেছেন। চিকিৎসার জন্য প্রায় ছয় মাস বিদেশে থাকার পর তিনি দেশে ফেরেন। খবর এএফপির 

বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের প্রবীণ এই নেতা রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে পৌঁছালে শত শত সমর্থক সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় দেউবাকে হাত নেড়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে ও হাসিমুখে দেখা যায়।

এপ্রিল মাসে অর্থপাচারের অভিযোগে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকারের আমলে উচ্চপর্যায়ের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ শিকার তিনি।

৮০ বছর বয়সী দেউবা গত ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য নেপাল ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা আগামী ১৪ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া নেপালি কংগ্রেসের তিন দিনের সমাবেশে অংশ নেবেন। দেউবার সমর্থক গীতা চৌধুরী বলেন, তিনি আমাদের অভিভাবক এবং এই দেশেরও একজন অভিভাবক।

নেপালে ফিরে দেউবাকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় তিনি বলেন, তিনি আমাদের যে স্বাধীনতা ও অধিকার দিয়েছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, দেউবার মামলাটি এবং তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের অধীনে রয়েছে।

তিনি এএফপিকে বলেন, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বিমানবন্দর এবং তার সমাবেশে আমরা নিরাপত্তা দিচ্ছি।

দেউবার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অর্জু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ বিপুল বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় আসার প্রায় এক মাস পর এসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ক্ষমতায় আসার পর শাহ সরকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে।

২০২৫ সালের বিক্ষোভে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে মার্চে অল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তরুণদের নেতৃত্বে ওই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্প সময়ের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। তবে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভোগের ক্ষোভও এতে যুক্ত হয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে সরকার পতন ঘটে।

দেউবার বাড়িও বিক্ষোভকারীদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। ওই দম্পতিকে বিক্ষোভকারীরা আক্রমণ করছে-এমন ভিডিওও ব্যাপকভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের খবরও পাওয়া যায়।

বিক্ষোভ তদন্তে গঠিত কমিশনের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে দেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোকে সম্ভাব্য ভুয়া বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র, যদিও এর পেছনে কে রয়েছে তা আমি জানি না।

দেউবার বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা নগদ অর্থের বিষয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে কমিশন।

এদিকে, তরুণ নেতাদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবির পর গত জানুয়ারিতে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান দেউবা।

দাবি আদায়ে ফের মানববন্ধনে পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
বৃত্তি দেবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, আবেদন আহবান
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে রাশিয়ান হাউ…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
অগ্রণী ব্যাংকের সাড়ে ৪ কোটির চুরির অর্থে গড়েন ডেইরি ফার্ম, …
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
ফখরুলের পদত্যাগ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
এক ফখরুলে অনেক পরিবর্তন বিএনপিতে, দল ও মন্ত্রিসভায় নতুন কয়ে…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬