সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি © সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ২১ দিন ধরে অনশনে থাকা ভারতীয় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে তাকে সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘদিন অনশনে থাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের মতে, এ সময়ে তার ওজন প্রায় ৯ কেজি কমে গেছে এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার সকালে যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে অনশন মঞ্চ সাদা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং সেখান থেকে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে এলাকা ত্যাগের অনুরোধ জানায় পুলিশ। এ সময় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানিয়েছে তারা।
বর্তমানে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তিনি জ্ঞান ফিরেছেন এবং আপাতত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এদিকে তার স্ত্রী পরিবারের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ বা চিকিৎসা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি এবং পুরো পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়ার পর অভিজিৎ দিপকে নিজেও অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন।
দিল্লি পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেই সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দুই দিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা যাবে না। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছিল, প্রতিটি মানুষের জীবন সমান গুরুত্বপূর্ণ।