থালাপাতি বিজয় © টিডিসি ফটো
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেও অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে হিমশিম খাওয়ার সুযোগে রাজ্যে দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে জোট গঠনের জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বিজয়কে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে দুই দ্রাবিড় দল ব্যাকচ্যানেলে আলোচনা শুরু করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বর্তমান সমীকরণে বিজয়ের সরকার গঠন পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকায় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পেলেও তিনি নিজে দুটি আসনে জেতায় একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। ফলে ২৩৩ সদস্যের কার্যকর বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১১৭টি আসনের প্রয়োজন হলেও বিজয়ের হাতে রয়েছে ১০৭টি।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ১১৭ জন বিধায়কের দালিলিক প্রমাণ ছাড়া তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না।
অন্যদিকে, ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, এআইএডিএমকে সরকার গঠন করলে ডিএমকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে। যদিও দল দুটি দশকের পর দশক ধরে একে অপরের প্রধান শত্রু হিসেবে পরিচিত, তবে নতুন শক্তি বিজয়ের উত্থান রুখতে তারা এক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেস এগিয়ে এলেও তারা শর্ত দিয়েছে যে, বিজয়ের সরকারে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তি বা এনডিএ জোটের শরিক থাকতে পারবে না। কংগ্রেসের এই শর্ত বিজয়ের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে। কারণ কংগ্রেসের সাথে বিজয়ের সমঝোতার খবরে এআইএডিএমকে ও পিএমকের মতো দলগুলো তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে।
এনডিএ সূত্র জানিয়েছে, 'দিল্লি' থেকে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা কংগ্রেস সমর্থিত কোনো সরকারকে সহায়তা না করে। ফলে বিজয় এখন সংখ্যার এক জটিল জালে আটকা পড়েছেন। বাম দলগুলো এবং ভিসিকেও এখনো তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করেনি, যা বিজয়কে আরও চাপে ফেলেছে।
রাজভবনের অনড় অবস্থানের কারণে বিজয়ের দ্রুত শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত ভেস্তে গেছে। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর বিজয়কে জানিয়েছেন যে, ‘দলিলসহ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেওয়া অপরিহার্য’। এর মধ্যেই রাজ্যপাল কেরালা সফরে যাওয়ায় বিজয়ের শপথ গ্রহণ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, দল ভাঙানোর ভয়ে এআইএডিএমকে তাদের প্রায় ৫০ জন বিধায়ককে পুদুচেরির একটি রিসর্টে সরিয়ে নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন এক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে যেখানে ছোট দলগুলো এখন 'কিংমেকার' হয়ে উঠেছে। যদি বিজয় শেষ পর্যন্ত ১১৭ জনের সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হন, তবে তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের এক হওয়া বা অন্য কোনো নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।