যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন্স স্পিরিট এয়ারলাইন্স © সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তা পেতে ব্যর্থ হয়ে স্থায়ীভাবে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন্স ‘স্পিরিট এয়ারলাইন্স’। শনিবার (২ মে) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অত্যন্ত হতাশার সাথে তারা অবিলম্বে তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। খবর বিবিসির
মূলত ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় স্পিরিট এয়ারলাইন্স এই চরম সংকটে পড়ে। একটি এয়ারলাইন্সের মোট খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই ব্যয় হয় জ্বালানি খাতে, যা যুদ্ধের কারণে মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি দুইবার দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করলেও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল। ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে একটি উদ্ধার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি এই বিনিয়োগকে ‘লোকসানি প্রজেক্টে অর্থ অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করে এর বিরোধিতা করেন।
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা সরাসরি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিট বুক করেছিলেন, তাদের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ড করা হবে। তবে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাত্রীদের এজেন্টের সাথেই যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া ভাউচার বা পয়েন্ট ব্যবহারকারীদের রিফান্ডের বিষয়টি দেউলিয়া আদালতের মাধ্যমে পরে জানানো হবে। ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের হোটেল খরচ বা অন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে স্পিরিট। এই বন্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান টিকিটের দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বর্তমানে এয়ারলাইন্সটির কাস্টমার সার্ভিস বন্ধ রয়েছে, তবে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকদের তাদের নির্ধারিত ‘ক্লেমস এজেন্ট’-এর সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।