জামিল হত্যায় অভিযুক্ত হিশামের অতীত রেকর্ড অপরাধে ভরা

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০ PM , আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৭ PM
গ্রেপ্তারকৃত হিশাম

গ্রেপ্তারকৃত হিশাম © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া হিশাম সালেহ আবু গারবিয়ার একাধিক অপরাধের তথ্য সামনে এসেছে। 

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে মারধর এবং একটি খালি বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়। এর আগে একই বছরের মে মাসেও তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ ছিল। এসব অপরাধ ‘মিসডিমিনর’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল।

এছাড়া ২০২৩ সালে তার পরিবারের এক সদস্য তার বিরুদ্ধে দুটি ঘরোয়া সহিংসতার অভিযোগ দায়ের করেন। এর মধ্যে একটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং অন্য আবেদনটি খারিজ করে দেয়। তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও ছিল। 

আদালতের রেকর্ড থেকে আরও জানা যায়, প্রথমবার অপরাধে জড়ানো ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ সংশোধনমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন হিশাম। ২০২৪ সালে তিনি এই কর্মসূচি সম্পন্ন করলে তার আগের অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়।

শেরিফ অফিস জানিয়েছে, হিশাম আবু গারবিয়ার বিরুদ্ধে ঘরোয়া সহিংসতা, মারধর, অবৈধভাবে আটকে রাখা, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যু সংবাদ গোপন করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিল লিমনের মরদেহ শুক্রবার সকালে টাম্পা বে’র হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়। অপর শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট, ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবু গারবিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

হিলসবোরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউয়ার জানান, ‘আমরা এখনো নাহিদাকে খুঁজে বের করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি এ বিষয়ে জনসাধারণের কাছে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের উত্তরে হিশামের পরিবারের বাসায় ঘরোয়া সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখেন এবং বের হতে অস্বীকার করেন। পরে সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত জামিল লিমন ও নিখোঁজ নাহিদা একে অপরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা ক্যাম্পাস থেকে নিখোঁজ হন। লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং তাকে সর্বশেষ হিশামের সঙ্গে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে দেখা যায়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর রাসায়নিক প্রকৌশলের ছাত্রী বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের একটি বিজ্ঞান ভবনে শেষবার দেখা যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পরিবারের এক বন্ধু কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

তদন্তকারীরা জানান, বৃহস্পতিবার হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হলে কিছু সময় পর তিনি কথা বলা বন্ধ করে দেন। তবে শুক্রবার গ্রেফতারের পর আবার গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্য কোনো সন্দেহভাজনের তথ্য পাওয়া যায়নি। জামিল লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে, শনিবার সকালে ফলাফল জানা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করলেও বর্তমানে সেখানে অধ্যয়নরত নন।

জাল সনদে চাকরি, দুই শিক্ষক কারাগারে
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বড় নিয়োগ, পদ ১৯১, আবেদন আগামীকাল বি…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি এগিয়ে আসছে, সম্ভাব্য সময় জানালেন …
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
গ্রেপ্তার ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস’ গ্রুপের ৪ জন, প্রশ…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবি সাংবাদিক সমিতির মানবব…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে টাকা পাঠালেই মিলছিল ‘এসএস…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬