প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে এবার সরাসরি যুক্ত হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সক্ষম জাহাজ প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে লন্ডন। কৌশলগত জলপথে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য জরুরি পরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসেবে আরএফএ লাইম বে-কে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ও মাইন-অনুসন্ধান ব্যবস্থা দিয়ে সজ্জিত করা হবে। খবর আনাদুলু এজেন্সির।
শনিবার সানডে টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটেন হরমুজ প্রণালিতে মাইন শনাক্তকরণ ও অপসারণের জন্য তৈরি স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের একটি বহরসহ রয়্যাল নেভির একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা বলেছেন, জিব্রাল্টারে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অধীনে থাকা জাহাজ আরএফএ লাইম বে-কে প্রশিক্ষণ মহড়ার জন্য ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হবে।
তবে দ্য সানডে টাইমসের দেওয়া সূত্র থেকে জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৫৮০-ফুট দীর্ঘ বে-শ্রেণির জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালিতে পাঠানোর জরুরি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।
প্রতিবেদন আরও বলা হয়েছে, জিব্রাল্টারে আরএফএ লাইম বে-কে স্বয়ংক্রিয় মাইন অপসারণ ব্যবস্থা, যার মধ্যে ডুবো ড্রোন এবং মাইন-অনুসন্ধানকারী নৌকা অন্তর্ভুক্ত, দিয়ে সজ্জিত করা হবে। এটিকে সমুদ্রতল পর্যবেক্ষণ এবং মাইন নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমের জন্য একটি মাদার শিপ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম করে তুলবে।
দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের একটি সূত্র টাইমসকে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে এখনো ‘কোনো সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হয়নি। সূত্রটি আরও যোগ করে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনে সহায়তার জন্য এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপটি মন্ত্রীদের হাতে বিভিন্ন বিকল্প তুলে দেয়।’
এর আগে দ্য টাইমস জানিয়েছে, এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে থাকা রয়্যাল নেভি মাইন অ্যান্ড থ্রেট এক্সপ্লয়টেশন গ্রুপের ড্রোনগুলো মোতায়েনের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। আশা করা হহচ্ছে এই ইউনিটটি আরএফএ লাইম বে-তে থাকা সরঞ্জামাদিকে সহায়তা করবে। আর এটি ৫০০ জন পর্যন্ত সৈন্য বহন করতে পারে এবং এতে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা ও অস্ত্র ব্যবস্থাও রয়েছে।
ট্রাম্প এই মাসে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ‘সন্তুষ্ট নন’। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রচেষ্টায় ব্রিটেনের ‘উৎসাহের সঙ্গে জড়িত হওয়া উচিত’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হাজার হাজার অভিযানকারী সৈন্য বহনকারী একটি মার্কিন উভচর যুদ্ধ জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে বলে শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে। ‘ইউএসএস ত্রিপোলি (এলএইচএ ৭) জাহাজে থাকা মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনারা গত ২৭ মার্চ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছেছে’ বলে সেন্টকম একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করে। এতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ প্রায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনকারী উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এর প্রতিশোধ নিচ্ছে।
এর মাসের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণত এর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল চলাচল করে। এই অচলাবস্থার কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে ও বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আরও বেড়েছে।