সারাদেশে টানা অতি ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে থাকায় দেশে দীর্ঘস্থায়ী কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী রবিবার (১২ জুলাই) থেকে বন্যা পরিস্থিতির আরও দৃশ্যমান উন্নতি হতে পারে।
তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চট্টগ্রামসহ দেশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতা এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকি এখনও কাটেনি বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, বৃষ্টিপাত কমে আসায় দেশের প্রধান নদ-নদী, বিশেষ করে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, খোয়াই এবং কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। ফলে বড় ধরনের বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কোনো শঙ্কা আপাতত নেই। আগামী রবিবার থেকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর পানি আরও দ্রুত নেমে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। রবিবার পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও এরপর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে যাবে।
টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। এছাড়া নগরীর আমবাগান এলাকায় ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তবে আশার কথা হলো, আগের দিনের তুলনায় চট্টগ্রামে বৃষ্টির বেগ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বৃষ্টি কমলেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে তীব্র জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জনভোগান্তি রয়ে গেছে।
অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাতেও গত তিন দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একটানা বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ঘরমুখী ও কর্মজীবী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে রাজধানীতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।