কক্সবাজার
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে আকর্ষণীয় সাইনবোর্ডে আধুনিক দন্তচিকিৎসার প্রচার © সংগৃহীত
কক্সবাজার শহরে লাইসেন্সবিহীন ডেন্টাল ক্লিনিক ও ডিগ্রিবিহীন ব্যক্তিদের দন্তচিকিৎসার অভিযোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শহরের হাসপাতাল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈধ অনুমোদন ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন ছাড়াই একের পর এক ডেন্টাল ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে ডিডিএস ডিগ্রিবিহীন ব্যক্তিরা দাঁত তোলা, স্কেলিং, রুট ক্যানাল, এমনকি ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে আকর্ষণীয় সাইনবোর্ডে আধুনিক দন্তচিকিৎসার প্রচার করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেখানে বৈধ দন্তচিকিৎসক উপস্থিত নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রেসক্রিপশনে বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বরও উল্লেখ করা হয় না।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, আইন অনুযায়ী বিডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ দন্তচিকিৎসা দিতে পারেন না। ডেন্টাল টেকনিশিয়ান বা সহকারীরা কেবল ল্যাবভিত্তিক কাজ করতে পারবেন; কোনোভাবেই রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন লেখা বা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকলেও জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম শাহিন বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত অভিযান এবং গণসচেতনতাই পারে ভুয়া দন্তচিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে।
স্থানীয় সাংবাদিক মনসুর আলম মুন্না বলেন, কম খরচের প্রলোভনে মানুষ ভুয়া চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে পরে জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন। জনস্বার্থে এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান প্রয়োজন।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ‘ডিগ্রিবিহীন ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এতে সংক্রমণ, ভুল চিকিৎসা ও স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
কক্সবাজারের সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে কক্সবাজারের সব ডেন্টাল ক্লিনিকের বৈধতা যাচাই করে লাইসেন্স ও বিডিএমসি নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠান সিলগালা করতে হবে। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।