১৩৭ জনের নিয়োগ অবৈধ, দায় নিতে হবে বিদায়ী ভিসিকে

নিয়োগ বাণিজ্য
রাবিতে নিয়োগ  © ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অস্থায়ী ভিত্তিতে ১৩৭ জনের নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত ও অবৈধ উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রগতিশীল শিক্ষকরা। এ নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ শনিবার (৮ মে) ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের স্টিয়ারিং কমিটির’ ১৬ সদস্যের সই করা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিধি-বহির্ভূত ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও কর্মচারী এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এ ঘটনার দায় বিদায়ী উপাচার্য ও তার সহায়তাকারীদেরই নিতে হবে বলে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্যরা মনে করে।

তারা বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরোধী নই। কিন্তু সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি মোতাবেক হতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের চাহিদা ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা কোনো লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের পক্ষে আমরা নই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বায়ত্তশাসনের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থনৈতিকভাবে উপাচার্যের লাভবান হওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লজ্জিত করেছে।

এসব শিক্ষকের দাবি, অতীতে তারা বহুবার উপাচার্যের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিষয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন এবং দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করে তার অপসারণ দাবি করেছেন। দাবি মেনে তাকে তখনই অপসারণ করা গেলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন তারা।

বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা অনেকদিন আগে থেকেই দেয়া ছিল। এরপরেও মেয়াদের শেষ দিনে এসে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুর্নীতির মাধ্যমে এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু অশান্ত ও অস্থিতিশীল করেনি, বরং দেশ ও জাতির সামনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

‘আমরা অবৈধ এই নিয়োগ বাতিল দাবি করছি এবং ক্যাম্পাসে অরাজক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এছাড়াও সদ্য সাবেক উপাচার্যসহ অবৈধ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ও প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করেন তারা।

বিবৃতিতে সই করেছেন অধ্যাপক তরিকুল হাসান, অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহানুর রহমান, অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্লাহ, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১৬ জন শিক্ষক।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নিয়োগ কার্যক্রমসহ উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা ২৫টি অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশনা দেয়। তবে তা উপেক্ষা করেই সেদিনই কয়েকটি পদে নিয়োগ দেন উপাচার্য।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ