ফার্নিচার কেনার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পেটালেন ঢাবি কর্মকর্তা

১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৪৮ PM

© প্রতীকী ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবনির্মিত ভবন শেখ রাসেল টাওয়ারে গত মাসে বাসা বরাদ্দ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের জৈষ্ঠ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান। এরপর নতুন বাসায় উঠে দামী ফার্নিচার কেনার জন্য যৌতুক হিসেবে শাশুর বাড়ি থেকে নগদ লাখ টাকা চেয়ে বসেন তিনি। একসঙ্গে এতো টাকা ‘ম্যানেজ’ করতে না পারায় পরবর্তীতে তার ‘অসুস্থ স্ত্রীর’ ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন।

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) ‘যৌতুকের জন্য নির্যাতন, প্লিজ শেষ পর্যন্ত পড়বেন’ এ শিরোনামে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এ ঘটনার আইনী সহায়তা চেয়েছেন মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আফসানা হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০০৭-০৮ সেশনের ছাত্রী ছিলেন। ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক কেন্দ্রীক গ্রুপ ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই স্ট্যাটাসটি দেন আফসানা হোসেন।

আফসানা জানান, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে মো. নুরুজ্জামানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দিন থেকেই নুরুজ্জামান তাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। এজন্য তাকে প্রায় মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। ২০১৫ সালে একটি ছেলে হওয়ার পর এ বছর আগস্টে আরেকটি মেয়ে হয়। এতদিন ধরে তার নির্যাতন অব্যাহত ছিল। অনেকবার পারিবারিকভাবে বিচার ও নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কাজ হয়নি বলে জানায় আফসানা।

ঢাবির সাবেক এই ছাত্রী বলেন, গত নভেম্বরে ঢাবি কর্মকর্তাদের জন্য নবনির্মিত শেখ রাসেল টাওয়ারে তার নামে বাসা বরাদ্দ হয়। সেখানে ওঠার পর থেকে তার অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। নতুন বড় বাসায় অনেক টাকার দামি ফার্নিচার যৌতুক দেয়ার জন্য আমার ওপর অত্যাচার করে। আমার বাবা তাকে ফার্নিচার কেনার টাকাও দিয়েছে। কিন্তু তাতেও তার হয়নি। তাকে অনেক লাখ টাকা নগদ দিতে হবে। আমাকে বলেছে, ‘বাবার বাড়ি থেকে এসব কি খুচরা টাকা নিয়ে আস!’

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে সে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে অনেক মেরেছে। চুলের মুঠি ধরে মেঝেতে ছুড়ে ফেলেছে। তারপর পেছন থেকে লাথি মেরেছে। রাগের কারণ, চাহিদা মতো যৌতুক না দেয়া। আমি চার মাসের সিজারের রোগী, এখনও পেটের ক্ষত শুকায়নি। ঘটনার পরদিন আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে বাবার বাসায় চলে আসি। কিন্তু সে আমাকে হুমকি দিয়েছে, ‘আমার বাচ্চাদেরকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে যাবে। ২য় বিয়ে করে সেই স্ত্রীকে দিয়ে আমার এতো ছোট বাচ্চাদের লালন পালন করাবে। আমার বোনদের ক্ষতি করবে।’ কিন্তু আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে বাবার বাসায় নিরাপদে বাঁচতে চাই।

এ ব্যাপারে জানতে নুরুজ্জামানকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদেবার্তা পাঠালে তার প্রতিউত্তরও দেননি নুরুজ্জামান।

ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের (ভারপ্রাপ্ত) ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জরুরি একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই মেয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারিনি। তবে আমি আমার স্ত্রীর মাধ্যমে ঘটনাটির বিস্তারিত জেনেছি। এতে আমার কিছু করার নেই। পরবর্তীতে আমি উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিতে বলেছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শও দিয়েছি।

চার মন্ত্রণালয়ে শনিবারের মধ্যে রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় বিএন…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ঢামেক অধ্যাপকের চোখের আঘাত ‘গুরুতর’…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
স্টোর ইনচার্জ নিয়োগ দেবে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, আবেদন অ…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন দেখ…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, নিজেসহ পরিবারকে নিরাপদ রাখতে করুন এই …
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
  • ২০ আগস্ট ২০২৬