© প্রতীকী ছবি
অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। যাদের স্মার্টফোন নেই কিংবা কেনার সামর্থ্য নেই তাদেরকেই ১০ হাজার টাকা (আনুমানিক) ঋণ দেয়া হবে। তবে এ অর্থ পরবর্তীতে অবশ্যই কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করতে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে স্মার্টফোন ক্রয়ে ঋণ গ্রহনের জন্য অস্বচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। আগামী ৯ তারিখের মধ্যে হিসাব পরিচালকের অফিসে এ তথ্য পাঠাতে সব বিভাগীয় প্রধান ও ইনস্টিটিউট পরিচালকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে স্মার্টফোন ক্রয়ে ঋণ গ্রহনের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ তথ্য চাওয়া হয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভাগের চেয়ারম্যান বা ছাত্র উপদেষ্টার সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যায়ের হিসাব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইলিয়াছ হোসেন আজ সোমবার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, চলতি মাসের ৩ তারিখে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে আগামী ৯ তারিখের মধ্যে অস্বচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এরপর ওই তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত সপ্তাহে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছিলেন, মোবাইল ডিভাইস দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করে পাঠানো বিষয়ে আমাদেরকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে আমরা অনেক আগে থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধু মোবাইল ডিভাইস কেন! এছাড়াও শিক্ষার্থীদের যা প্রয়োজন তার একটি অর্থবহ সার্ভে করবো এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুসারে আমরা তা বিতরণ করবো।
তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যতকে সামনে রেখে এ কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপচার্যকে (শিক্ষা) নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবেদন তৈরির কাজও প্রায় চূড়ান্ত। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে ইনক্লুসিভ ইকুয়েটবল এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন মান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছে।
উপাচার্য বলেন, অনলাইনে ক্লাস শুরু করার একদম প্রথমদিক থেকে আমাদের এ প্রয়াস আছে এবং তা চলমান। বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট তাদের কি প্রয়োজন তার একটি বিজ্ঞানভিত্তিক, বস্তুনিষ্ঠ সমীক্ষা করে আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করবো।
প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণ রোধে মার্চের মাঝামঝি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে। সব শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সুবিধা ভোগ করতে পারে, সেজন্য বিনামূল্যে ডাটা সরবরাহ ও স্মার্টফোন সুবিধা দিতে মতামত দেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৫ জুন ইউজিসি ও উপাচার্যদের একটি অনলাইন সভায় এ মতামত উঠে আসে। এ প্রেক্ষিতে স্মার্টফোন ক্রয়ে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেয় ইউজিসি।