বাবার গন্ধ জ্যাকেটে, তাই নিয়ে জন হপকিন্সে গিয়েছিল জায়ান

৩০ আগস্ট ২০২০, ১১:২২ PM
বাবার সাথে জায়ান

বাবার সাথে জায়ান © ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক দম্পতি মোবাশ্বের মোনেম ও ফারাহ হাসিনের বড় ছেলে জায়ান সামীন (২৫)। ফুল স্কলারশিপে আমেরিকার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশান শেষ করে জন হপকিন্স হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি পিএইচডিও করেছিলেন জায়ান। বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ না হতেই সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন তিনি।

ঘুমের মধ্যেই গতকাল শনিবার আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে তার। অধ্যাপক দম্পতির ছেলের অকাল মৃত্যুতে ঢাবি ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন।

জায়ানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। আজ রবিবার রাতে দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ স্মৃতিচারণ করেন। নিচের সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-

“তাকে প্রথম দেখি ৩ বছর বয়সে, লন্ডনে। তারপর প্রায় ১০ বছর পর বাংলাদেশে। ফুলার রোডে উঠেছি তখন। মাঠে খেলতে গিয়ে দেখি, বা পায়ে খেলা একটা লম্বা ছেলে একাই ড্রিবল করছে চার/পাঁচজনকে। বেশী ড্রিবলিং সহ্য হয়না আমার। এ্যই পাস দে, পাস দিয়ে খেল, বলে তাদের কড়া শাসন শুরু করলাম।

তারা অবাক আর আমোদিত। একটু পর মোবাশ্বের এসে দেখি খেলা দেখছে আমাদের। জানলাম বা পায়ে দুর্দান্ত খেলা ছেলেটা মোবাশ্বেরের। নাম জায়ান। ছোটবেলায় একবার তাকে কোলে পিঠে করে আদর করেছিলাম। এ দাবিতে আমার হম্বি-তম্বি বাড়লো আরো।

ছোটভাই জাইমের সাথে তার লেগে গেলে বকা দেই, ফাউল করলে বকা, রেগে বল বাইরে পাঠিয়ে দিলে আরো বকা। সে একটু ভূরু কুচকে অন্যদিকে তাকিয়ে আমার সব শাসন মেনে নেয়। একদিন মাঠে নামতে দেরি হলে সে-ই আঙ্কেল আঙ্কেল বলে চিৎকার করে পাড়া সরগরম করে তোলে। হঠাৎ একদিন বাসায় আসে বিদায় নিতে। বিদেশে যাচ্ছে পড়তে। আমার চোখ ভিজে যায়। সে অপ্রস্তুত হয়ে তাকিয়ে থাকে। আমি বোকার মতো বলি, কবে আসবি আবার!

তারপর তাকে দেখি না বহুদিন। কতোদিন আমার মনে হয়েছে মোবাশ্বেরকে বলি, কেন পাঠালেন এতো ছোট বয়েসে! তারপর ভাবি কষ্টটা তাদের। মোবাশ্বের পাবলিক এডের টিচার, জা্ইমের মা ফারাহ ইকোনমিক্স-এর। ছেলেদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য ছুটি নিয়ে অনেকটা সময় ফারাহ থাকে আমেরিকায়, মোবাশ্বের একা একা দেশে। সব উপার্জন, সব সময়, সব মনোযোগ, দুরে থাকার কষ্ট দুটো ছেলের জন্য তাদের।

ফেসবুকে জাইমের অসাধারণ সব কৃতিত্বের খবর শুনি। মাঝে মাঝে দেশে আসলে সব ফেলে ছুটে যাই খেলার মাঠে। প্রত্যকবার জায়ান ফিরে আরো লম্বা আর সুদর্শন হয়ে। প্রত্যেকবার একেকটা মাইলষ্টোন ছুয়ে। আমার তাতে কিছু আসে যায়না। ১১ বছর আগের মতো বকাবকি করি তাদের। এই জায়ান পাস দে। ফাউল করিস কেন? এতো রাগ কেন তোর। অবিকল আগের মতো একটু ভ্রু কুচকে অন্যদিকে তাকিয়ে শোনে সে আমার শাসন।

আমাদের সেই জায়ান নেই আর। জন হপকিন্স-এ ছিল সে।ঘুমের মধ্যে মারা গেছে কাল তার ডর্মে। কালরাতে বাসায় গিয়ে দেখি প্রাণহীন একদলা মাংশপিন্ড হয়ে সোফায় ঢোলে পড়ে আছে মোবাশ্বের। তাকে জড়িয়ে ধরে রাখি। সে একসময় বলে, ডিসেম্বরে যাওয়ার সময় আমার একটা জ্যাকেট নিয়ে গেছে। বলে বাবা এটা পড়বো না। নিলাম তোমার গন্ধ পাওয়ার জন্য।

ড্রয়িংরুমে সাজানো একটা ছবিতে সানবীমস-এর নিলুফার মঞ্জুর আর তখনকার সেরা ছাত্র জায়ান। দুজনের কেউ নেই আর। ড্রয়িংরুমে সারি সারি ছবি। চারপাশে শুধু জায়ান আর জায়ান। সে শুধু ছবি আজ। মানুষ কিভাবে বাচে সন্তান হারিয়ে! কোন এভাবে আচমকা চলে যায় আমাদের সন্তানরা?

একেটা প্রিয়জন যায় একেকটা কবর খোড়া হয় আমাদের হৃদয়ে। আমার বুক ভরে গেছে এমন অজস্র কবরে। সব মানতে পারি। মানতে পারিনা অসময়ে চলে যাওয়া কারো। ভাবতে পারিনা এতো উজ্জ্বল, এতো দুর্দান্ত, এতো টগবগে একটা ছেলে কেমন করে নিথর হয়ে যায় চিরদিনের জন্য।

জায়নামাজে বসে মাঝে মাঝে তলিয়ে যাই অতল গভীরে। অনুভব করতে চাই কোথায় যায় আমাদের প্রিয়জনরা আমাদের ছেড়ে। কিছু বুঝি না। শুধু আরো ভালো করে অনুভব করি, কি তুচ্ছ এ জীবন, কি তুচ্ছ জীবনের এতো আয়োজন! জায়ান, আমার ভালোবাসা বাবা!”

রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আবারও মন্ত্রিসভায় ড. মঈন খান
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
পারিবারিক রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ পার্…
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রিন্স হ্যারির বিরুদ্ধে মামলায় জিতল ‘ডেইলি মেইল’, ৭ দিনের …
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
১৪ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কলেরার টিকাদান শুরু শনিবার, পাবেন যারা
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
শপথ নিলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
  • ২১ আগস্ট ২০২৬