ঢাকা ইউনিভার্সিটি আন্ট্রাপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের (ডিইউইডিইসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের বৃহৎ উদ্যোগ সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ আন্ট্রাপ্রেনারশিপ সামিট-২০২০। শুক্র ও শনিবার (২৪ ও ২৫ জুলাই) দুই দিনব্যাপী ভার্চুয়ালি সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ও উদ্যোগী তরুণেরা অংশগ্রহণ করেছেন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ছিল ২১টি বিষয়ভিত্তিক কথোপকথন সেশন ও একটি ডেমো পিচিং সেশন। সেশনগুলোতে স্পীকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশ-বিদেশের অর্ধশতাধিক অভিজ্ঞ ও সফল ব্যক্তিত্ব, যারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্টার্টআপ শুরু করার ঝুঁকি থেকে শুরু করে তহবিল সংগ্রহ, অনুপ্রেরণা, দরকারি দক্ষতা, ব্যর্থতার কারণ, টেকসই উন্নয়নসহ আরও নানান বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক ও গঠনমূলক আলোচনা করেছেন।
বাংলাদেশি আলোচকদের বাইরে বিদেশ থেকে অংশ নেয়া আলোচকেরা ছিলেন ১০টি ভিন্ন দেশের নাগরিক। এদের মধ্যে ছিলো মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত মেধাবী উদ্যোক্তারা।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সামিটের প্রথমদিন শুক্রবার মোট ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল মঈন, ড. সালিভান মোর্ট, হাল প্রাইজের প্রধান নির্বাহী পরিচালক আহমেদ আসকার, বিপ্রপারটির প্রধান নির্বাহী পরিচালক মার্কস নসওয়ার্দি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সম্মেলনের প্রধান আয়োজক ও ডিইউইডিইসির মডারেটর ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ।
প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত সেশনগুলোর মধ্যে বর্তমান চাকরির বাজার, উদ্যোগ যাত্রা, মার্কেটিং ও ব্র্যান্ড পরিকল্পনা, বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের সফলতার গাঁথা, তাদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনের গল্প, স্টার্টআপের জন্য ইন্টেলিজেন্স পাওয়ার দক্ষতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ১৩টি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্যোক্তা হওয়ার নৈতিকতা, সামাজিক উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ, শিশু উদ্যোক্তা, উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকি, দেশের বাইরে বাণিজ্যিকতার সুযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্ভাবনী প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়।
এ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা সেগমেন্ট ছিলো ‘ডেমো আইডিয়া পিচিং’। এই সেগমেন্টে তরুণরা তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া উপস্থাপন করেছে এবং সেই আইডিয়ার ভালো-মন্দ দিক তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়।
সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশননের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াতুল ইসলাম।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এতো বৃহৎ পরিসরে এই প্রথম উদ্যোক্তাদের নিয়ে কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। অনলাইনে আয়োজন করার কারণে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে মানুষ সম্মেলনটিতে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের উন্নয়নে এবং তরুণদের ব্যবসায়মুখী চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রশংসার দাবি রাখে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।