ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বলে উল্লেখ করেছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। আজ শুক্রবার সংগঠনের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সিনেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেটের ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ বেতন বাবদ, ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জে, ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংষ অবসর ভাতা ও পেনশনে ব্যয় হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মচারী আর্থিকভাবে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে তাদের সহযোগিতার জন্য বাজেটে বিশেষ কোন বরাদ্দ নেই।
অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছে। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। এ সমস্যা সমাধানেও বাজেটে বিশেষ কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি।
গত বছরের তুলনায় বাজেটের আকার বেড়েছে। কিন্তু গবেষণায় বরাদ্দ কমেছে। গত বছর গবেষণায় বরাদ্দ ছিল ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ আর এ বছর ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ। অথচ এই করোনার সময়ে আমরা যা কিছু প্রত্যক্ষ করলাম তাতে করে এই সময়ই সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল গবেষণায়।
বিশ্ববিদ্যালয় বাজেটের ৭৪৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে। আর অভ্যন্তরীণ আয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি টাকা। এর পুরোটাই আদায় করা হবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। ফলে একে তো এই করোনা পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর অবস্থা খারাপ। এরপর ক্যাম্পাস খুললেই অভ্যন্তরীণ আয়ের নামে নানা অযুহাতে শিক্ষার্থীদের উপর ফির খড়গ নেমে আসবে। এছাড়াও ঘাটতি বাজেট ৫০ কোটি ৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছ।
বিশ্ববিদ্যালয় কোন লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয় যে এখান থেকে ঘাটতি বাজেট পুষিয়ে নেয়ার তৎপরতা থাকবে। এই ধরণের বাণিজ্যিক তৎপরতা শিক্ষার ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক। তারা দাবি জানান, করোনাকালে শিক্ষার্থীদের আর্থিক-প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।