এসএম ফরহাদ

ডাকসুর ৩০ গুণ বেশি বাজেট পেয়েছে রাকসু, চাকসু পেয়েছে ২০ গুণ

২৯ জুন ২০২৬, ১০:২৬ PM
সিনেট অধিবেশনে জিএস এস এম ফরহাদ

সিনেট অধিবেশনে জিএস এস এম ফরহাদ © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

রাকসু আমাদের (ডাকসু) চেয়ে ২০ গুণ বেশি বাজেট পেয়েছে। চাকসু আমাদের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি বাজেট পেয়েছে। জাকসু, চাকসু, রাকসু প্রত্যেকটা ছাত্র সংসদ যদি আমাদের চেয়ে অনেকগুণ বাজেট পায়, তাহলে আমাদের বাজেট কেন আটকে যাবে? সোমবার (২৯ জুন) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে এই প্রশ্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। 

সিনেট অধিবেশনে এস এম ফরহাদ বলেন, ডাকসু বাজেট নিয়ে আমি সাধারণত উপাচার্য স্যারকে কিংবা কোষাধ্যক্ষ স্যারকে প্রশ্ন করলে উত্তর পাই আন্তঃখাত সমন্বয়ের মাধ্যমেই কিছু একটা করা হয়েছে। কিন্তু গত বছরের কী পরিমাণ বাজেট- কোথায়, কীভাবে আন্তঃখাত সমন্বয় করা হয়েছে এ ধরনের কোনো তথ্য আজকের বাজেট প্রস্তাবে নেই। 

মাননীয় উপাচার্য স্যারের বক্তব্য শুনে আমি খুব দুঃখ পেয়েছি। পুরো বক্তব্যের কোথাও নেই যে, গত বছর একটা সফল ডাকসু নির্বাচন হলো এবং আগামী ডাকসু কখন হবে বা সেটা নিয়ে আপনারা কি চিন্তা করছেন?  

আজকের ঐতিহাসিক বক্তব্যে সেটা থাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এ ধরনের কোনো ফিডব্যাক না দেখে খুবই দুঃখ পেয়েছি। আজকের অধিবেশনে ডাকসু নির্বাচনের বিষয়টি ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন থাকা দরকার ছিল। বাজেটের কোথাও ডাকসু ইলেকশন বাবদ কী খরচ হবে বা আদৌও খরচ করতে ইচ্ছুক কি-না এরকম কিছু নেই। যেটা খুবই অ্যালার্মিং। পরবর্তীতে হয়ত আমাদের শুনতে হবে, বাজেট নেই বলে ইলেকশন দিচ্ছি না। এমনটা শুনতে যেন না হয় সেটা আজকে সমাধান করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, রাকসু আমাদের (ডাকসু) চেয়ে ২০ গুণ বেশি বাজেট পেয়েছে। চাকসু আমাদের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি বাজেট পেয়েছে। জাকসু, চাকসু, রাকসু প্রত্যেকটা ছাত্র সংসদ যদি আমাদের চেয়ে অনেকগুণ বাজেট পায় তাহলে আমাদের বাজেট কেন আটকে যাবে?

তিনি খাদ্যে ভর্তুকি, খাবারের মানোন্নয়ন ও ডিজিটাল রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বলেন, স্যার (উপাচার্য) বারবার বলছেন যে, খাবারের ব্যাপারে তিনি সিরিয়াস এবং খাবারের মান উন্নত করতে চান। কিন্তু এখানে কোথাও কোনো পর্যায়ে হলের কিংবা ফ্যাকাল্টির খরচে কোনো পর্যায়ে খাদ্যে ভর্তুকি দিবে কি-না বা এটা কীভাবে ডিল করবে সেটার কোনো ইনস্ট্রাকশন এখানে নেই। 

স্যার (উপাচার্য) বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যে, রেজিস্ট্রার বিল্ডিংকে তিনি ডিজিটাল এবং পেপারলেস একটি রেজিস্ট্রার বিল্ডিং করতে চান। কোনো প্ল্যানও এখানে নেই। এটা খুবই দুঃখজনক। তার মানে আমরা বুঝতে পারছি, আগামী এক বছরের মধ্যে হয়ত রেজিস্ট্রার বিল্ডিং ডিজিটাল বা পেপারলেস অবস্থায় আমরা পাব না। দৃশ্যমান কোনো কাজ আমরা পাব না। রেগুলার বেতন-ভাতার খরচই এখানে দেওয়া হয়েছে, কোনো সংশোধনী এখানে নেই। হুবহু আগের মতো ফটোকপি।

স্যানিটেশন খাতের বেহাল দশা নিয়ে ডাকসু জিএস বলেন, আন্তঃখাত সমন্বয় নামে স্যানিটেশনের যে খরচ, সেখান থেকেও টাকা অন্য খাতে নিয়ে যাওয়া হয়। আর নয়তো স্যানিটেশনের যে মিনিমাম কাজ সেটা কখনো খরচ করা হয় না। স্যানিটেশনের জন্য যে ফান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয় এখান থেকে এক টাকাও খরচ করা হয় নাই। এটা নিয়ে বেশ আগে নিউজ হয়েছে। এরপরও কোনো ধরনের পরিবর্তন হয়নি এর কোনো ফিডব্যাকও নাই। 

অথচ আপনি কলা ভবন, কার্জন হলের ওয়াশরুম গুলোতে গিয়ে দেখেন খুবই খারাপ অবস্থা। সেখান থেকে শিক্ষক, হল প্রভোস্ট সহ আমাদের বারবার ট্রেজারার স্যারের কাছে চিঠিপত্র নিয়ে ঘুরতে হয়। আর ট্রেজারার স্যার খুব সিরিয়াসলি বলেন, ‘বাজেট নেই, আমাদের আর কোনো সোর্স নেই দিতে পারব না’। এ ধরনের রিপ্লাই বারবার এসেছে এবং হল প্রভোস্টরা এই রিপ্লাই নিয়ে গেছেন। আমরা এর কোনো ফিডব্যাক দেখতে পাই নাই। এটা খুবই হতাশাজনক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জায়গা থেকে ফান্ড জোগাড় করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয়ে নিয়ে চিন্তা করা উচিৎ। কিন্তু আমরা শুধু রাষ্ট্রের কাছে দায় দিয়ে দিই। এটা খুবই ব্যর্থতার পরিচয়।

এসএম ফরহাদ বলেন, আন্তঃখাত সমন্বয়ের নামে শিক্ষার্থীদের টাকা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও গবেষণা খাতের টাকা অন্য খাতে খরচ হওয়া আমরা কোনোভাবেই প্রত্যাশা করি না। বাজেটে একদম পরিষ্কার নির্দেশনা থাকতে হবে, যেন আন্তঃখাত সমন্বয়ের নামে এমন টানা-হেঁচড়া না করা হয়; বরং অন্য সোর্স থেকে ফান্ড এনে এখানে বিনিয়োগ করার একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা আমরা আপনাদের কাছ থেকে চাই।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণে স্পেনে দিন-রাতের আবহ, মুগ্ধ লাখো দর্…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী বিসিবি, বিপিএল নিয়ে মিলল বড় ইঙ্গিত
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ে তদন্তে নামছে মন্ত্রণালয়, কমিটি গ…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
৩২ বছর আগে ঢাকায় হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সন্ধান মিলল পাকিস্তানে
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
সৈনিক পদে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষকদের বদলিতে ধীরগতি, কারণ জানাল মাউশি
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬