ঢাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত ১০টার পর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী। গতকাল (বুধবার) বিকেল থেকে অনশনে বসেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম। পরে তার সাথে সংহতি প্রকাশ করে অনশনে বসেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান ও ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ।
নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, গণভোটের রায়নিয়ে মতপার্থক্যের কোনো অবকাশ নাই। বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে, সেখানে যদি কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য সংস্কারকে পাশ কাটানো হয়, সেটা বাংলাদেশের মানুষ মানবে না।
তিনি বলেন, আমি বারবার বলার চেষ্টা করেছি, আমাদের যে সাংবিধানিক কাঠামো—এই কাঠামোটা হলো ফ্যাসিস্ট কাঠামো। এখন আপনি তারেক জিয়াকে বসান, শেখ হাসিনাকে বসান, যাকে ইচ্ছা তাকে বসান না কেন, সেই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে। এজন্য আমাদের সিস্টেমটা পরিবর্তন করতে হবে। এই সিস্টেম পরিবর্তনের জন্যই যারা শহীদ হয়েছে তারা রাজপথে নেমেছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী না হলে লাভবান হবে যারা দুর্নীতি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তো দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা এ ধরনের মন-মানসিকতা পোষণ করে, তাদের দ্বারা দেশের কি উন্নয়ন হবে তা আমরা জানি। এখন এই তিনজন ব্যক্তি অনশনে আছে, ৩১ ঘণ্টা হয়েছে। তাদের দাবি হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হয়, তবে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। জুলাই সনদ যেটা শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে এসেছে, সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।
এরপর রাত ১০টা ৪০ মিনিটে অনশনরত শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজু ভাষ্কর্যে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল টিম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনিরসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।