উৎসবের আমেজে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল © টিডিসি সম্পাদিত
পবিত্র রমজানকে মাসকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলো সেজেছে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও রঙিন ব্যানারে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিনার, চাদঁ-তারাসহ ইসলামী ঐতিহ্যের নানান প্রতীকও।
বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সাদামাঠাভাবে রমজানকে উদযাপন করা হলেও গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকে গেল বছর থেকে নতুন উদ্যমে রমজানকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
সেই ধারাবাহিকতায় এবছরও আত্মশুদ্ধি, সংযম ও সম্প্রীতির এই মহিমান্বিত মাসকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। আর এ কাজে হল প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছে হল সংসদগুলো।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পহেলা রমজান সন্ধ্যায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল, স্যার এ এফ রহমান হল, বিজয় ৭১ হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, শহীদ ওসমান হাদী হল (প্রস্তাবিত), কবি সুফিয়া কামাল হল, ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হল, হাজী মোহাম্মদ মুহসিন হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রবেশদ্বারকে ঝলমলে আলোকসজ্জা দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে।
গেটজুড়ে শোভা পাচ্ছে রমজানের শুভেচ্ছাবার্তা। ঐতিহ্যবাহী চাঁদ-তারা, মসজিদের মিনার ও ইসলামী নকশায় সাজানো হয়েছে হলের প্রবেশপথ। ঝুলানো হয়েছে রমজান থিমের ব্যানার ও ফেস্টুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা।
গেল বছর থেকে রমজান শুরুর দিন থেকে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন হলের হল সংসদের উদ্যোগে এ সাজসজ্জার আয়োজন করা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং হল সংসদের প্রচেষ্টায় তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন।
রমজানকে সামনে রেখে হল সাজানোর বিষয়ে কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদের ভিপি (সহ-সভাপতি) ওসমান গণি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন,‘রমজান হলো ত্যাগ, ধৈর্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাস। আমরা হল সংসদ ও প্রশাসনের উদ্যোগে আলোকসজ্জা করেছি যেন শিক্ষার্থীরা ইফতার, তারাবি ও ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা ঐক্য, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। ভবিষ্যতেও এমন সুন্দর উদ্যোগ অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ।’
শহীদ ওসমান হাদি হলের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহির বলেন,‘বরাবরের মতোই রমজান উপলক্ষে হলগুলোতে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। তবে এবারেরটা একটু ব্যতিক্রম। হল সংসদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন ভাবে স্পন্সর ম্যানেজ করে যতটা সম্ভব উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে চেষ্টা করেছেন।’
হলের এই আলোকসজ্জা মনকে প্রশান্তি এনে দিচ্ছে জানিয়ে যোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো মাহাদিয়াব হোসেন বলেন, ‘রমজানের পবিত্রতায় হলের এই আলোকসজ্জা মনকে প্রশান্তি দিচ্ছে। আলোর এই কারুকাজ যেন রমজানের পবিত্রতাকেই ফুটিয়ে তুলছে। হলের এই সাজসজ্জা আমাদের ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করলো।’
হলকে এভাবে সাজানোর মধ্যেও পরিবারকে মিস করছেন সূর্য সেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাবিব। তিনি জানান,‘হলগুলোতে রমজান উপলক্ষে উৎসবের আমেজ মন ভালো করে দেয়। পরিবার থেকে দূরে হলের বাকিদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি এবং বর্ণিল রঙে সুসজ্জিত হল অন্যরকম অনুভূতি দেয়।’