বিতর্কিত উপাচার্য: ঢাবির তালিকা থেকে মুছে গেলেও রয়েছে রাবিতে

০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:৪৪ PM , আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৮:০৬ PM
অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন

অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন © লোগো

মুক্তিযুদ্ধের আগে ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার অবস্থান নিয়ে ‘বিতর্ক’ রয়েছে। তিনি অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১৩তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ। তথ্যমতে, ১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই নিয়োগ পেয়ে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পদটিতে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যদিও বর্তমানে উপাচার্য হিসেবে ঢাবির কোনো নথিপত্রে তার নাম বা ছবি ব্যবহার করা হয় না।

এর আগে অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন ১৯৬৯ সালের ৫ আগস্ট থেকে ঢাবিতে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত অথাৎ ১৯৭১ সালের ১৮ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চতুর্থ উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যদিও বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্রে উপাচার্যের তালিকায় রয়েছে তার নাম ও ছবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় তার নাম নেই কেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও উপাচার্যের তালিকা অনুসারে, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৬৯ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। তার পদত্যাগের পরে পাকিস্তানি সামরিক সরকার অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনকে নিয়োগ দিলেও, এই নিয়োগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতি দেয়নি।

ঢাবি ভিসি কার্যালয়ে উপাচার্যের তালিকায় বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর পর অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের ছবি নেই 

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগেই ইউরোপে ছিলেন। ২৫ মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো দেশে পাকিস্তানি সেনারা একযোগে হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে তিনি স্বাধীনের আগে আর দেশে ফেরেননি। বিলেতে থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য কাজ করেছেন। বিশ্ব জনমত গঠনে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরির ভূমিকা বাঙালি চিরকাল স্মরণ করবে

জানা যায়, আবু সাঈদ ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। একাত্তরের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অধিবেশনে যোগদানের জন্য জেনেভা যান। সেখানে জেনেভার একটি পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন ছাত্রের মৃত্যু সংবাদ দেখে বিচলিত হয়ে ২৫ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক শিক্ষা সচিবকে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেরিত এক পত্রে লেখেন, “আমার নিরস্ত্র ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর পর আমার ভাইস চ্যান্সেলর থাকার কোন যুক্তিসংগত কারণ নেই। তাই আমি পদত্যাগ করলাম”। এরপর মুজিবনগর সরকার তাকে প্রবাসী সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়।

মুক্তিযুদ্ধে সৈয়দ সাজ্জাদের ভূমিকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আশা ইসলাম নাঈম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন। এজন্য তাকে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি পাকিস্তানের একাত্মতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার বিপক্ষে ছিলেন।

সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন তার লেখা “একাত্তরের স্মৃতি” বইয়ে বলেছেন, তিনি বৃহত্তর পাকিস্তানের কাঠামোতে সমস্যার সমাধান চেয়েছিলেন এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ঐক্যের পক্ষে ছিলেন।

জানা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে সৈয়দ সাজ্জাদের নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো তালিকায় দেখা যায়নি। তার ছবি উপাচার্য অফিসে রাখা ছবিগুলোর মধ্যেও নেই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো তার নাম রয়ে গেছে
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এখনো উপাচার্যদের তালিকায় অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের নাম আছে। তালিকায় অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন চার নম্বরে রয়েছেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অফিসের অনার বোর্ডেও তার নাম সংযুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাবির ওয়েবসাইটে চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের নাম রয়েছে

জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ২৫তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, তালিকায় অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের নাম আছে। উনাকে নিয়ে তর্ক-বির্তক থাকতে পারে। ইতিহাসের অংশ হিসেবে উনার নাম থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। 

গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বহিরাগতদের বসবাস নিষিদ্ধ করল জ…
  • ২০ মে ২০২৬
প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত: জামায়াত আমির
  • ২০ মে ২০২৬
নদীতে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর
  • ২০ মে ২০২৬
২২ বছরের অপেক্ষার পর শিরোপা জিতল আর্সেনাল
  • ২০ মে ২০২৬
রাজধানীতে মাদ্রাসা ছাত্র অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, শিক্ষক গ্…
  • ২০ মে ২০২৬
ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু রামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা ব…
  • ২০ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081