জাবি ভর্তি পরীক্ষা
© টিডিসি ছবি
দীর্ঘ ১২ বছরের লালিত একটি স্বপ্ন। সেটা বাস্তবায়নে নিরলস শ্রম। উদ্দেশ্য একটাই, উচ্চশিক্ষায় স্বপ্নের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন। যেটি অর্জন করতে রাত-দিন এক করে পরিশ্রম করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এই স্বপ্ন পূরণে অন্যতম সারথি হলেন মা-বাবা।
আজ রবিবার (১৮ জুন) আইবিএ ও ‘সি’ ইউনিটের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা। এটিকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাদচারণাায় মুখর হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করলেও বাইরে বৃষ্টিতে ভিজে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ প্রাঙ্গণ, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদ, ক্যাফেটেরিয়া, সেন্ট্রাল ফিল্ড ও সংশ্লিষ্ঠ পরীক্ষা কেন্দ্র ভবনগুলোর আশপাশে অভিভাবকদের উপস্থিতি বেশি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর, চৌরঙ্গী, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, পুরাতন কলা ভবন এবং জাবি স্কুল ও কলেজ মাঠে অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কেউ কেউ খালি ঘাসের উপর শুয়ে-বসে, কেউ গাছের নিচে পেপার বিছিয়ে, কেউ পত্রিকা পড়ছেন, কেউ বই পড়ছেন, কেউবা আবার ছাতা ছাড়া হাল্কা বৃষ্টিতে ভিজে চুপষে আছেন; অপেক্ষা করছেন সন্তানের জন্য। সবার মুখেই রয়েছে চিন্তার প্রলেপ। যেন অভিভাবকরা নিজেরাই ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
উচ্চমাধ্যমিকের পরের জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করার পথে অন্যতম সিঁড়ি হলো এই ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষা শিক্ষার্থীরা দিলেও ছায়া হিসেবে শারীরিক ও মানসিকভাবে সব সময়ই পাশে থাকেন বাবা-মায়েরা। যা ভর্তি পরীক্ষায় একজন সন্তানের মানসিকতাকে অনেকটাই উজ্জীবিত থাকে। এমন সময়ে বাবা-মায়ের সাপোর্ট আলাদা একটা শক্তি যোগাতে সহযোগিতা করে। এতে একজন সন্তানের জন্য সফলতার পথ ত্বরান্বিত করতে সহজ হয়।
এমনই কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয় দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের। তারা জানিয়েছেন সন্তানদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তাদের উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও অনুভূতি।
“আল্লাহর কাছে বাবা-মায়েরা সব সময় সন্তানের মঙ্গল কামনা করে। আমার ছেলের স্বপ্ন সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকার অদূরে এটিই উপযুক্ত ক্যাম্পাস। তবে খুব চিন্তা হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই ভর্তি পরীক্ষা শুধু সন্তানের নয়, আমি নিজেই পরীক্ষা দিচ্ছি।”
নেত্রকোনা থেকে আসা অভিভাবক জীবন নাহার বলেন, আমার একমাত্র ছেলের পরীক্ষা। অনেক দূর থেকে এখানে এসেছি। উদ্দেশ্য একটাই আমার ছেলের যেন তার স্বপ্ন পূরণ হয়, এখানে চান্স পায়। সে পরীক্ষা হলে ঢুকার পর থেকেই খুব চিন্তা হচ্ছে। তবে আমার আত্মবিশ্বাস আছে, আমার ছেলে তার লক্ষে পৌঁছাবে। আমি বাইরে বসে ওর জন্য অপেক্ষা করছি আর মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি।
সাথে ছাতা না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে রুমাল মাথায় দিয়ে বসে আছেন রংপুর থেকে আসা এক মেয়ে ভর্তিচ্ছুর বাবা। তিনি বলেন, সারা রাত জার্নি করে সকালে এসে পৌঁছেছি। এখানে এসে দেখি সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কাছে ছাতাও নেই। এদিকে জার্নি করে মেয়েটা ক্লান্ত হয়ে গেছে। খুব চিন্তা হচ্ছে। জানি না কেমন পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষাটা যদি বিভাগীয় পর্যায়ে হতো তাহলে এতটা কষ্ট হতো না।
ঢাকা থেকে আসা এক অভিভাবক আলমগীর হোসেন বলেন, আল্লাহর কাছে বাবা-মায়েরা সব সময় সন্তানের মঙ্গল কামনা করে। আমার ছেলের স্বপ্ন সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকার অদূরে এটিই উপযুক্ত ক্যাম্পাস। তবে খুব চিন্তা হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই ভর্তি পরীক্ষা শুধু সন্তানের নয়, আমি নিজেই পরীক্ষা দিচ্ছি।
কুষ্ঠিয়া থেকে ছেলেকে নিয়ে এসেছেন অলক কাপালি। তিনি বলেন, একটা সিটের আশায় এত দূর থেকে আমার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে এসেছি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সে যেন একটি সিট পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।