ইউজিসির হিট প্রকল্পের নতুন পরিচালক ঢাবি অধ্যাপক রাকিবুল হক

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৩ PM , আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ PM
অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক

অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীন হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত ১৯ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে প্রেষণে এ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

একই আদেশে আগের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে কপিরাইট অফিস ভবনে হিট প্রকল্পের কার্যালয়ে বিদায়ী প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক।

এ সময় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, হিট প্রকল্পের চিফ ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার এ কে এম মুখলেছুর রহমান, হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. নাজমিন আফরোজ, চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক সেলিনা জামান, সিনিয়র কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম আবদুল হাছিব, প্রকল্পের ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলামসহ ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন প্রকল্প পরিচালককে স্বাগত জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্প দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের অন্যতম বড় প্রকল্প। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে উচ্চশিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

পাঁচ বছর মেয়াদি হিট প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫০ দশমিক ৯৬ শতাংশ অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ দেবে বিশ্বব্যাংক।

কে এই ফুলব্রাইট স্কলার অধ্যাপক রাকিবুল?
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা, একাডেমিক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অধ্যাপক রাকিবুল হকের ২০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর এই নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক হক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তিনি ২০২০, ২০২১, ২০২২, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁর গবেষণাকর্মের মধ্যে রয়েছে ৮০টিরও বেশি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবন্ধ এবং গুগল স্কলারে ৭,৫০০-এর বেশি সাইটেশন, যা একাডেমিক গবেষণা ও জ্ঞান বিকাশে তাঁর অবদানের পরিচায়ক।

অধ্যাপক হক চীনের হুয়াজং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

হকের আন্তর্জাতিক একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, জাপান, ভারত, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ঘানার গবেষক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা। তাঁর গবেষণা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

গবেষণা কার্যক্রম, একাডেমিক সম্মেলন এবং জ্ঞান বিনিময়ের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, সৌদি আরব, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।

এ ছাড়া তিনি অ্যাসোসিয়েশন ফর ইনফরমেশন সিস্টেমস. ইন্টারনেট সোসাইটি, জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম, ফুলব্রাইট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাইসহ বিভিন্ন পেশাগত ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এসব সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক পেশাগত পরিমণ্ডলে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রতিফলন।

দেশের উচ্চশিক্ষার অগ্রগতি ও রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করাই হিট প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের প্রকল্পে কার্যকর ফলাফল অর্জনের জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত কৌশল, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, জবাবদিহিমূলক প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি ও তথ্য-উপাত্তের যথাযথ ব্যবহার।

গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক নেটওয়ার্কে অধ্যাপক হকের অভিজ্ঞতা জ্ঞান বিনিময়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্প্রদায়ের সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।

অধ্যাপক হকের এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে একাডেমিক অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিক গবেষণা-অবদান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন সম্পর্কে তার দক্ষতার সমন্বয় ঘটেছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উদ্ভাবনমুখী, গবেষণানির্ভর, ডিজিটাল সক্ষমতাসম্পন্ন এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত করে গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে এসব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পবিপ্রবিতে র‍্যাগিং-নির্যাতনের দায়ে ১১ শিক্ষার্থীর অর্থদণ্ড…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
মেয়াদ শেষ হলেও শপথ নিতে পারেননি রাবির সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে গ্লোবাল মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
চিনি কি সত্যিই শরীরের জন্য বিষ, যা বলছেন পুষ্টিবিদরা
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে চাকরি, আবেদনে বাকি ৩ দিন
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
আইইউবিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ৬ষ্ঠ জাতীয় কারিগর…
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬