৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ ইউজিসির

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১১ PM
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন © সংগৃহীত

বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং জাতীয় জনশক্তি উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কমিশন।

দেশের আট বিভাগের কোনো অঞ্চল যাতে এ কর্মসূচির আওতার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় রিসোর্স ও লোকেশন ম্যাপিংয়ের জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনশক্তির চাহিদা, স্থানীয় জনগণের আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) ইউজিসিতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন। সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ কমিশনের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে মোট আটটি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি হবে এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন এবং দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অথবা বিদ্যমান ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনশক্তির চাহিদা, স্থানীয় জনগণের আগ্রহ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সম্ভাবনা বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন অঞ্চলে কোন ভাষার চাহিদা বেশি, তা চিহ্নিত করা হবে। এর ভিত্তিতে চাহিদাভিত্তিক ভাষা নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের একটি বাস্তবসম্মত ম্যাপিং প্রণয়ন করা হবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—এই আটটি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সভায় আলোচিত হয়। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষার কোর্স চালু হবে, তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। বিদ্যমান ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, পরিচালিত কোর্স, প্রশিক্ষক ও জনবল কাঠামো এবং অবকাঠামোগত সুবিধা পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তাও নির্ধারণ করা হবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি দক্ষ প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিজ্ঞ ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও মান নিশ্চিতকরণে ইউজিসি প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে। কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো প্রণয়ন, আধুনিক ভাষা ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্র যাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্পন্ন ভাষা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আগ্রহী অন্যান্য ব্যক্তিরাও নির্ধারিত নীতিমালার আওতায় সাশ্রয়ী মূল্যে ভাষা শেখার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বহুভাষিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

এ কার্যক্রমের সুষ্ঠু, সমন্বিত ও টেকসই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউজিসির মাধ্যমে একটি অভিন্ন নীতিমালা ও পরিচালন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নীতিমালায় ভাষা নির্বাচন, কোর্স পরিচালনা, প্রশিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন, শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কেন্দ্রগুলোর তদারকিসহ প্রয়োজনীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 

নদীতে ভেসে উঠল মৃত ডলফিন
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হলের রুমে ‘এটাচড টয়লেট’ বানাচ…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
মহাসচিব হিসেবে বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
২০ টাকার লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৫৫ বছরের…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৩ কর্মকর্তাকে বদলি
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদলপন্থি দুই শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ১৫২ একরে ১৫২ বৃক্ষরোপণ
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬