ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সুখবর— বুয়েটের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৪৬ PM

© প্রতীকী ছবি

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র আশা-ভরসার নাম ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)। পলিটেকনিক পড়ুয়া লাখ লাখ ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন এই ক্যাম্পাসে যেন মাথা গোঁজার ঠায় হয়। কেননা দেশে সরকারিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে পলিটেকনিক পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন করার সুযোগ পেয়ে থাকে।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন করার সুযোগ থাকলেও কজন পড়তে পারে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে পড়তে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ দিতে পারে না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা। ফলে পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা শেষ করে কর্মজীবনে ডুকে যায় অনেকেই।

তবে এসব শিক্ষার্থীদের এবার সুখবর দিয়েছে সরকার। দেশের ৪টি জেলায় নির্মিত হচ্ছে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নড়াইল ও খাগড়াছড়ি জেলায় এসব নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তত্ত্বাবধানে এসব কলেজে ৫০ শতাংশ ডিপ্লোমা পাস করা শিক্ষার্থী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। 

সম্প্রতি সেশনজট নিরসনসহ ৪ দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। এ প্রেক্ষিতে রবিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। এসময় সেসব দাবির ব্যাখ্যা দেন তিনি।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের একটি দাবি ছিল —সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ করা। এ প্রসঙ্গে টেনে সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, গাজীপুরের ডুয়েটে কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে ডিপ্লোমা করা পর ভর্তি সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও আমরা আরও ৪ জেলায় ৪টি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং নির্মিত হচ্ছে। সেখানে ডিপ্লোমা পাস করা প্রকৌশলীদের থেকে ৫০ শাতংশ এবং বাকি ৫০ শতাংশ সরাসরি ভর্তির সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান বুয়েটের তত্ত্বাবধানে করা হবে। এর ফলে প্রচুর সংখ্যা ডিপ্লোমা পাস করা প্রকৌশলী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার সুযোগ পারে। সেই বিষয়টিও সরকারের মনোযোগে আছে। প্রথম পর্যায়ে ৪টি বিষয়ে ৩৬০ জন এবং পরবর্তীতে বিষয় বাড়লে সেখানে হাজারের উপরে ডিপ্লোমা পাস করা প্রকৌশলীদের ভর্তির সুযোগ থাকছে।

এদিকে, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়েছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, সরকারের সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

মো. সাইমুন নামে এক শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা শেষ করে নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। তিনি বলেন, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার পাশাপাশি আমাকে ফুল টাইম জবও করতে হচ্ছে। ফলে পড়াশোনায় বেশ সমস্যা হচ্ছে। আমার মতো নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা ছেলেদের পক্ষে এতো টাকা দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সম্ভব নয়। তাই চাকরির টাকা দিয়ে নিজকেও চলতে হচ্ছে আর টিউশন ফিও দিতে হচ্ছে।

সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাহ আলম নামে এক প্রকৌশলী বলেন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের নিঃসন্দেহে এটি একটি সুখবর। সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক শিক্ষার্থী আর উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলা কিউআর নিয়ে আলেমদের সঙ্গে…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থান আর আমার আরেক আব্বু-আম্মু খুঁজে পাওয়ার গল্প
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি দেশি জাত উন্নয়নেও জোর দিতে হবে: …
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
জামায়াত আমিরের বাসায় প্রদর্শনীতে জিয়ার অনুপস্থিতি নিয়ে রিজভ…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
সোমবার কয়টায় দেখা যাবে এসএসসির ফল, জানাল বোর্ড
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
বর্ষায় জমজমাট ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬