কারিগরি শিক্ষকদের বেতন জটিলতা কমাতে উদ্যোগ নিচ্ছে অধিদপ্তর © সংগৃহীত ছবি
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) অধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পরিশোধ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়। সফটওয়্যারের জটিলতায় এসব ধাপ অতিক্রম করতে গিয়ে এক বা একাধিক মাস পর বেতন পাচ্ছেন শিক্ষকরা। পুরোনো সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়েছে। ফলে নতুন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের মাধ্যমে বেতন পেতে বিলম্বের এ জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। অধিদপ্তর বলছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রতি মাসের ১ থেকে ২ তারিখের মধ্যে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ডিটিই।
জানা গেছে, নতুন নীতিমালায় যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে বেতন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তবুও কিছু প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, তারা সময়মতো বেতন পাচ্ছেন না। ফলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট-পিআইইউ) প্রকৌ. মোঃ মাকসুদুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। বেতন-ভাতার কাজ পরিচালনার জন্যও এমন সফটওয়্যার রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন পেতে দেরি হওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা রয়েছে। তবে মূল কারণ সফটওয়্যারের কার্যপ্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, সফটওয়্যারের বিভিন্ন ধাপ ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া অতিক্রম করতে গিয়ে বেতন পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের ইএফটি শাখাসহ বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে পৌঁছায়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনও লেগে যায়।
বেতন পেতে এই দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে অধিদপ্তর। পুরোনো ও নতুন সব শিক্ষক-কর্মচারীর ইএফটির মাধ্যমে বেতন পাওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সফটওয়্যার কোম্পানি খোঁজা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনার কাজ করে মূলত ডেভেলপার কোম্পানিগুলো।আগে একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ছিল। সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেহেতু চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে এমন ডেভেলপার কোম্পানি নেওয়া হবে যাতে এই জটিলতা না পোহাতে হয় এবং যথাসময়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পেতে পারেন।
ইতোমধ্যে বেতন-সংক্রান্ত সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলমান জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর সেবা যাচাই করা হচ্ছে। যাদের সেবা উপযুক্ত মনে হবে, তাদের সফটওয়্যার নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা চাই সফটওয়্যারের কার্যপ্রক্রিয়া সহজ করে এ সময় কমিয়ে আনতে।
তিনি আরও বলেন, এই সফটওয়্যারের সঙ্গে জীবিকার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। একজন শিক্ষক-কর্মচারী কাজ করছেন অথচ সময়মতো বেতন পাচ্ছেন না এটি অবশ্যই উদ্বেগের। আমরা চাই সেবার এই সীমাবদ্ধতা দূর হোক। আমাদের উদ্দেশ্য এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা যথাসময়ে বেতন পান।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে তিনটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবও পাওয়া গেছে। নতুন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও সেটি চালুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার পর সেটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, নতুন সফটওয়্যার চালুর ক্ষেত্রে আগের সফটওয়্যার থেকে তথ্য স্থানান্তরও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কোনো তথ্য বাদ পড়া বা নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটি যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অধিদপ্তরের লক্ষ্য, প্রতি মাসের ১ থেকে ২ তারিখের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পাওয়ার ব্যবস্থা করা। তবে নতুন সফটওয়্যার চালুর সময়সীমা এবং বেতন পরিশোধে বিলম্ব পুরোপুরি দূর করার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।