শরিফুল ইসলাম © টিডিসি সম্পাদিত
পরপর দুইবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার ভাইভা পর্যন্ত গিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। কিন্তু দুইবারই ফলাফলে এসেছে ‘নট রিকমেন্ডেড’। ধরা দেয়নি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, তবু থেমে যাননি তিনি। ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই তৃতীয়বারের মতো দাঁড়িয়েছিলেন ভাইভা বোর্ডের সামনে। এবার আর হতাশ হতে হয়নি। তৃতীয় চেষ্টাতেই পূরণ হয়েছে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন।
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম।
সাফল্যের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শরিফুল বলেন, লাখো কোটি শুকরিয়া মহান আল্লাহর দরবারে। দুইবার ভাইভা দিয়েছি, দুইবারই স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। তৃতীয়বারও যখন ভাইভা বোর্ডের সামনে দাঁড়ালাম, মনে শুধু একটাই কথা ছিল, চেষ্টা আমার, ফলাফল আল্লাহর হাতে। আজ সেই তৃতীয় চেষ্টায় আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ আমাকে সফল করেছেন। এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, নির্ঘুম রাত, অপেক্ষা, দুশ্চিন্তা, হতাশা, ব্যর্থতা এবং বারবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৪ নম্বর সিংহেশ্বর ইউনিয়নের চাতুলিয়াকান্দা গ্রামের সন্তান শরিফুল ইসলাম। বাহিরশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। পরে বাহিরশিমুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং হালুয়াঘাট শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
বাবা-মাকে নিজের এই অর্জনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দিয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি, রাত জেগে পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মায়ের দোয়া, ত্যাগ, ভালোবাসা ও তাঁর প্রতি অটুট বিশ্বাসই ছিল এই দীর্ঘ পথচলার অন্যতম শক্তি। শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান, মূল্যবোধ ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিজেএসে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া পরীক্ষার্থী ও নতুনদের উদ্দেশ্যে শরিফুল বলেন, ১৬তম ও ১৭তম বিজেএসের পর যদি আমি থেমে যেতাম, তাহলে হয়তো ১৮তম বিজেএসের এই দিনটি আমার জীবনে আসতো না। ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়। অনেক সময় ব্যর্থতা আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করে, ধৈর্যশীল করে এবং কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়। তাই ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। একদিন হয়তো সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে, যেদিন পেছনে ফিরে তাকিয়ে মনে হবে তখন হাল ছেড়ে দিলে আজকের এই দিনটি পাওয়া সম্ভব হতো না। যারা প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিবেন তাদেরকেও বলবো নিজের স্বপ্নের পিছনে লেগে থাকুন, সাফল্য আসবেই।
ভবিষ্যৎ দায়িত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, এই অর্জনকে শুধু একটি পদ বা পরিচয় হিসেবে দেখতে চাই না। ন্যায়, সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি মহান আল্লাহর কাছে সেই তাওফিক চাই।