ভয়ে কাঁপছিল হাত, নিজের রোল দেখেই চোখে আনন্দের জল— প্রথম বিজেএসেই ১৩তম পারভেজ

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ PM , আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ PM
পারভেজ রহমান

পারভেজ রহমান © টিডিসি সম্পাদিত

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ রহমান। প্রথমবার অংশ নিয়েই সারাদেশের মধ্যে মেধাক্রমে ১৩তম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে এই অনন্য সাফল্য পান ঢাবির এই শিক্ষার্থী।

১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ১৩তম হয়েছেন। এমন দুর্দান্ত অর্জনে আপনার অনুভূতি কেমন প্রশ্নে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া—তিনি আমার দোয়া কবুল করেছেন। রেজাল্ট দেখার সেই বিশেষ মুহূর্তটির কথা যদি বলি, সত্যি বলতে ভয়ে আমার হাত কাঁপছিল। তবুও ধীরে ধীরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তালিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। ২য় লাইনেই যখন নিজের রোল নম্বরটা দেখতে পাই, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আনন্দে চোখে পানি চলে আসার মতো হয়েছিল। বাবা আমাদের জন্য সারাজীবন অনেক পরিশ্রম করেছেন, অসুস্থ শরীর নিয়েও এখনো নিয়মিত অফিস করেন। আজ বাবার মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, আলহামদুলিল্লাহ।

আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল প্রশ্নে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, আমার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কাছমেরতাইর গ্রামে। আমার বাবা মো. ইমান আলী একজন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এবং মা পারভীন বেগম গৃহিণী। আমরা দুই ভাই ও এক বোন। আমার ভাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তার এবং ছোট বোন সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে।

আমার সাফল্যের সংবাদ শোনার পর বাবা আবেগে কান্না করে দিয়েছিলেন। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত সবাই খবরটি শুনে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। মূলত বাবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই এতদিন কঠোর পরিশ্রম করেছি। পুরো জার্নিতে বাবার অনুপ্রেরণাই আমাকে পড়াশোনায় একাগ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পথটা কেমন ছিল? কোনো বিশেষ চ্যালেঞ্জ বা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে কি প্রশ্নে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, প্রস্তুতির সময়টিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি নির্দিষ্ট রুটিন নিয়মিত মেনে চলা। তাও আলহামদুলিল্লাহ, আমি চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করে পড়াশোনা করতে হতো।

তবে প্রস্তুতির মাঝপথে আমি হঠাৎ মারাত্মক মাইগ্রেন ব্যথায় আক্রান্ত হই। তখন একই ধারায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। তবুও লক্ষ্য স্থির রেখে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পরিশ্রম করে গেছি। যা আজ আমাকে এই সফলতা এনে দিয়েছে।

পারভেজ রহমান ২০১৮ সালে জামালপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। সম্প্রতি ঢাবি থেকে অনার্স সম্পন্ন করে ‘ফার্স্ট ক্লাস থার্ড’ স্থান অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদালয়েই এলএলএম (মাস্টার্স) অধ্যয়নরত রয়েছেন তিনি।

বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনে ব্যর্থ বাবর
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিরপুরে ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ এনডিএফের, জড়িতদের শ…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চবি আবৃত্তি সংসদের নেতৃত্বে হাসনাত-ফাহিম-মম
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিরপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়া নিয়ে সরকারের কাছে ৪ …
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউআই গ্রিনমেট্রিক র‍্যাংকিং ২০২৬: দেশসেরা পরিবেশবান্ধব বিশ্…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জামায়াত একটি গুপ্তবাহিনী, এদের কেউ ছাত্রলীগ, কেউ আওয়ামী লীগ…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬