উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে স্মারকলিপি দিচ্ছেন ছাত্রদলের নেতারা © টিডিসি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা অব্যাহত রাখতে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন এবং সব আবাসিক হলের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে এই দাবিতে শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজ স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এতে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সারা দেশের ন্যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদান, পরীক্ষা, গবেষণা এবং আবাসিক হলসমূহে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সকল সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কেও একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসন ভবন, সকল একাডেমিক ভবন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হলসমূহে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আমরা মনে করি।
ছাত্রদলের নেতারা বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে, প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানো ও পরিবেশ সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদলের দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী সোলার প্যানেল স্থাপনের কার্যক্রমটি হাতে নিয়েছে। ইসলামে বিশ্ববিদ্যালয়েও এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ইতিবাচক চিন্তাভাবনা রয়েছে। আমরা আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস সোলার প্যানেলের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’