শপিং সেন্টারের দোকান ‘দখল’, ছেলেসহ দোকানদার-ভবন ম্যানেজারকে কিল-ঘুসি ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতাদের

২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ PM , আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ PM
একজনকে কিল-ঘুসি মারছেন ঢাকা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ

একজনকে কিল-ঘুসি মারছেন ঢাকা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ © সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

রাজধানীর নিউমার্কেটে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, মালামাল লুট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভাড়াটিয়া দোকানদার ও মার্কেট ম্যানেজারকে মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজও ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে গ্লোব শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় ২৮ নম্বর ‘আছিল ভেলর’ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলেন—ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম, জামাল আহমেদ জেনিন, সাইফ হাসান এবং আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, পারভেজ মোশাররফ ও অপু মৃধা এবং ছাত্রদলকর্মী মোস্তাক আহমেদ ও নাইম আহমেদ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম ও জামাল আহমেদ জেনিনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী দোকান ভাঙচুর করছেন। এক পর্যায়ে দোকানের ভাড়াটিয়া আমিনুল ইসলাম ও তার ছেলেকে মারধর করতে দেখা যায়। এসময় ঘটনাস্থলে মার্কেট ম্যানেজার জুয়েল রানা আসলে মাজেদুল ইসলাম তাকে কিল-ঘুষি দিচ্ছেন। একইসঙ্গে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা যায় ওই ফুটেজে।

দোকানদার আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জমি মালিকের থেকে আমি দোকানটা ভাড়া নিই। চলতি অক্টোবর মাসের এক তারিখ থেকে আমাকে ভাড়া দিয়েছে। ১ তারিখে মালপত্র উঠিয়েছি, সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি, মাল-টাল ঢুকিয়ে ব্যানার করেছি দোকানের নামে। এখন হঠাৎ করে হারুন নামে একজন বলছে উনি দোকান মালিক। এরপর ঢাকা কলেজের মাজেদ, জামালসহ ৩০ থেকে ৪০ জন দোকানের সবকিছু ছিঁড়ে, ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলে দিয়েছে। মালপত্র বাহিরে ফেলে দিয়েছে।

মার্কেটের ভূমির মালিক এক ভাড়াটিয়ার কাছে দোকান বরাদ্দ দেয়। তিনি দোকান চালাচ্ছিলেন। এরপর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ঢাকা কলেজের কিছু লোকজন এবং অবৈধভাবে দোকানের মালিক দাবি করা একজন বহিরাগত দোকান দখলের চেষ্টা করছে। এটা নিয়ে তারা আজকে দোকান দখল করতে এসে ভাড়াটিয়ার ওপরে হামলা-মারধর করেছে— জুয়েল রানা, গ্লোব শপিং সেন্টারের ম্যানেজার

তিনি বলেন, আমার ছেলেরে আমার সামনে মারধর করেছে। আমার সব মালপত্র, মানিব্যাগ, সবকিছু নিয়ে গেছে। আমাকে জবাই করার হুমকি দিয়েছে। আমাদের মারধর করে টাকাসহ মানিব্যাগ, টিভি, কম্পিউটার, মালপত্র সব বাহিরে ফেলে দিয়ে তারা দোকানে তালা মেরে দিয়েছে। দোকানের সামনে আমার মাল এখনো পড়ে আছে। আমি মাল এখনো ধরিনি। দুই লাখ টাকা মতো ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন এসেছিল, তারা আপাতত দোকানটা বন্ধ রাখতে বলছে। এখন আমরা আর কী করব?

গ্লোব শপিং সেন্টারের ম্যানেজার জুয়েল রানা বলেন, মার্কেটের ভূমির মালিক এক ভাড়াটিয়ার কাছে দোকান বরাদ্দ দেয়। তিনি দোকান চালাচ্ছিলেন। এরপর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ঢাকা কলেজের কিছু লোকজন এবং অবৈধভাবে দোকানের মালিক দাবি করা একজন বহিরাগত দোকান দখলের চেষ্টা করছে। এটা নিয়ে তারা আজকে দোকান দখল করতে এসে ভাড়াটিয়ার ওপরে হামলা-মারধর করেছে।

একজনকে মারধর করছেন মাজেদুল ইসলাম

তিনি বলেন, অবৈধভাবে দোকানের মালিক দাবি করা হারুনকে আগে কখনও দেখিনি। তিনি ইতালি প্রবাসী। মার্কেটের দোকানে হামলার ঘটনায় আমরা আইনগত পদক্ষেপ চাচ্ছি। মার্কেটে কোনো বিশৃঙ্খলা বা কিছু না হোক, মার্কেট সুষ্টুভাবে চলুক, যাতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে। কারণ এরকম হামলা হলে কাস্টমার এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আমরা আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি।

অভিযুক্ত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঘটনা হচ্ছে একজন ইতালি প্রবাসীর দোকানটি এক সপ্তাহ আগে দখল হয়েছে। তার লিগ্যাল কাগজপত্র সব আছে। হাইকোর্টে একটা মামলাও প্রক্রিয়াধীন আছে। থানা-পুলিশ সবাই জানে। কিন্তু তিনি ইতালি থাকার ফলে মাল-টাল বের করে দিয়ে এক সপ্তাহ আগে আরেকজনকে দিয়ে দখল করিয়েছে ভবন মালিক।

তিনি বলেন, ইতালির ব্যবসা রেখে দেশে আসার পরে ওই প্রবাসী পুলিশ-প্রশাসন থেকে সব জায়গায় গেছে। বড় ভাই যারা আছে, সবার কাছে গেছে। সবাই উনার পক্ষে। বলেছে যে, যেহেতু কাগজপত্রে আপনি লিগ্যাল আছেন, তারা এইটা অন্যায় করছে; আপনারা আপনাদের মতো করে দখল নেন। এরপরে থানা থেকে বের হলাম, থানা উনার পক্ষে বলল। থানায় বলেছে যে, আপনি কোর্টে গিয়ে মামলা দিয়ে দেন। আজকে তো কোর্ট বন্ধ। রবিবার গিয়ে আবার মামলা দিবে কোর্টে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল আহমেদ জেনিন

মারধরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উনি যখন মার্কেটে গেছে, উনি গেলে ওনাকে ধরে বসছিল। সিসি ফুটেজটা পুরাটা দেয় নাই কিন্তু। ওনাকে মারছে ওরা। পরে আমি বলছি, ভাই মারামারি করবেন না। ওরা আমার কলারটা ধরে বসছে। আমরা এগুলো পছন্দ করি না। দরকারই ছিল না; যেহেতু এটা দোকান নিয়ে সমস্যা, তারাই বুঝে নেবে। এখানে আইন আছে, তারা ওভাবে করবে। আমরা কারো পক্ষে যাব না। কিন্তু তারা অন্যায়ভাবে দখল নিয়েছে।

আমার ছেলেরে আমার সামনে মারধর করেছে। আমার সব মালপত্র, মানিব্যাগ, সবকিছু নিয়ে গেছে। আমাকে জবাই করার হুমকি দিয়েছে। আমাদের মারধর করে টাকাসহ মানিব্যাগ, টিভি, কম্পিউটার, মালপত্র সব বাহিরে ফেলে দিয়ে তারা দোকানে তালা মেরে দিয়েছে। দোকানের সামনে আমার মাল এখনো পড়ে আছে। আমি মাল এখনো ধরিনি। দুই লাখ টাকা মতো ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন এসেছিল, তারা আপাতত দোকানটা বন্ধ রাখতে বলছে। এখন আমরা আর কী করব— আমিনুল ইসলাম, দোকানদার

জানতে চাইলে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক জামাল আহমেদ জেনিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা মার্কেটে ঢুকছিলাম কেনাকাটা করতে। এর মধ্যে ভিতরে বিশৃঙ্খলা। গিয়ে দেখি যে, ওখানে এক প্রবাসী—প্রায় ২০ বছর যাবত নাকি একটা দোকান ওনার মালিকানায় ছিল। এখন হঠাৎ করে গেল সপ্তাহে, উনি (আমিনুল ইসলাম) নাকি এটা দখল করে ফেলছে। উনি দেশে এসে দোকান বুঝে নেওয়ার জন্য গেছে। এটা বুঝে নিতে গিয়ে বর্তমানে ওরা দখল করে আছে যে, সেই ভাড়াটিয়া এবং দোকানের মালিকের সাথে একটা মারামারির ঘটনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আসলে ওখানে অবস্থান করছিলাম যেন বিশৃঙ্খলা না হয়। এজন্য আমরা সবাইকে নির্দেশ করেছি যাতে মারামারি না হয়। কিন্তু আরও তো লোকজন আসছিল। ওখানে যারা উচ্ছৃঙ্খল ছিল, তারা কথা শুনছিল না। একপর্যায়ে তাদের ভেতরে একটা কথা কাটাকাটি লেগেই গেছে। দেখা যায় যে মারামারি হচ্ছে, সেখানে মধ্যস্থতা করতে গিয়ে আবার মারামারি লেগে যায়। এরকম হয়েছে।

ছাত্রদল নেতা জেনিন বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের সামনে তো, আমাদের দায়িত্ব আছে। চোখের সামনে একটা অফেন্স হলে, দায়িত্ব তো থাকে, ওই হিসেবে ওখানে ছিলাম। আমি না কাউকে মেরেছি, না কাউকে কোনো কথা বলেছি।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান

তিনি বলেন, মাজেদ যখন প্রথম বলছে যে, এখানে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা করা যাবে না, আপনারা অফিসে অফিসে বসে দুই পক্ষ সমাধান করেন। এটা বলার পর যে লোকটা ভাড়াটিয়া ছিল বর্তমানে দখল করার পরে, ওনার ছেলে ওর ওপরে চড়াও হয়েছে। ওইটা নিয়ে দুজনে হয়তো একটু লাগছে আর কি।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছি। তাই এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউমার্কেট থানার ডিউটি অফিসার মাহবুবুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ ঘটনায় দোকানদার আমিনুল ইসলাম একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। যাচাইসাপেক্ষে এটি মামলায় পরিণত হতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

ভিডিও দেখুন

সমাবর্তন ফি নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা, ক্যাম্পাস খুললে কর…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেবে ৪৩ পদে, আবেদন ৩০ অক্টোবর…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
আইএইচটি-ম্যাটসে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা ১৩ নভেম্বর
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৬তম গ্রেডে চাকরি, আবেদন ৭ ন…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩০ রান তাড়া করে জয়ের রেক…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬