ছাত্রদলের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব সামছুল আরেফিন এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল আচরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
ছাত্রদল নেতা সামছুল আরেফিন বলেন, ক্ষমাপ্রার্থী, প্রিয় নবীন শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা ত্রুটিগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যতটুকু ঝামেলা ও ভুল বোঝাবুঝিতে যেটুকু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে তার জন্যে আপনাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। সত্যকে অস্বীকার করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। আমাদের আরো দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত ছিলো সকলের। সামান্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যাতীত অসাধারণ একটি অনুষ্ঠান করতে আমরা সফল হয়েছি বলে আমরা আশা করি।
আপনাদের অভূতপূর্ব সাড়া এবং অংশগ্রহণ আমাদের আপ্লুত করেছে। বিশ্বাসই করিনি আপনারা এতটা ভালোবাসা এবং আন্তরিকতা দেবেন। যেভাবে ২ টা পর্যন্ত আপনারা ছিলেন, তা অসাধারণ। সংস্কৃতির নগরীতে সুস্থধারার সংস্কৃতির অভাব পূরণের চেষ্টা থেকেই এ আয়োজন। মানুষে মানুষে সংস্কৃতির মেলবন্ধন আত্মাকে উন্নত করে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নিয়ে আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ
শেষে তিনি লেখেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্যে কোন ভণিতা নয়, সরাসরি ক্ষমাপ্রার্থী। আগামীতে আমরা আরো বেশি দায়িত্বশীল আচরণে সচেষ্ট হবো ইনশাল্লাহ। সামনে আবারও সুন্দর, সুস্থ এবং সংস্কৃতি বান্ধব আরো অনুষ্ঠান নিয়ে এগিয়ে যাবো।
এর আগে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ ভবনসংলগ্ন মাঠে কনসার্ট চলাকালে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, প্রথমে কনসার্টের স্টেজে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষে জড়ায় জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও অপর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
প্রথমে বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণের কনসার্টস্থলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে ও কাঁঠালতলায় মারামারি, ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে একে অপরকে মারতে যেতে দেখা যায়।