এতোদিন ধরে চলা সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা ছাড়লেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আর এই সাথে বার্সার সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হলো মেসির।
আর্থিক এবং সংগঠনমূলক কিছু বাধার কারণে তারা পুনরায় চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে না বলে সাফ জানিয়েছে বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বার্সার সঙ্গে মেসির বর্তমান চুক্তি ছিল ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। ওই চুক্তি নবায়ন করেননি মেসি।
মেসির বার্সা ছাড়ার মূল কারণ হচ্ছে লা লিগার কিছু আইন-কানুন। দুই পক্ষ চুক্তি করার ব্যাপারে পুরোপুরি রাজি থাকলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি হয়নি লা লিগার আর্থিক আইন-কানুনের কারণেই। খেলোয়াড়দের বেতনের জন্য প্রতিটি ক্লাব একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি খরচ করতে পারে না।
পড়ুন: নেইমারের পিএসজিতে যাচ্ছেন মেসি!
স্প্যানিশ লিগের আরোপ করা বেতনের সীমার মধ্যে বার্সেলোনার বেতনের বিল আগে থেকেই ছিল না, এর মধ্যে মেসির চুক্তি নবায়ন করতে বার্সাকে অসম্ভবকে সম্ভব করতে হতো। এতদিন শোনা গিয়েছিল, বার্সা সে লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও ফল এলো না।
শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার আর্থিক জটিলতা ও লা লিগার নিয়ম কানুনই শেষ টেনে দিল মেসি আর বার্সার সম্পর্কের। ছাড়াছাড়িই হয়ে গেল লিওনেল মেসি আর বার্সেলোনা। ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হলো।
বার্সা ছাড়ার পর কোন ক্লাবে যোগ দিচ্ছেন মেসি? এটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। মেসির সম্ভাব্য গন্তব্য পিএসজি কিংবা ম্যানচেস্টার সিটি। তবে সময়ের সেরা এই তারকাকে পেতে চায় জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দল গুলোও।
মেসির ক্যারিয়ারের পুরোটা ছিল বার্সার ছায়াতলে। ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার নিউওয়েলস ওল্ড বয়েস ক্লাব থেকে বিনা ট্রান্সফার ফিতে ন্যু ক্যাম্পে যোগ দেন মেসি। ২০০২ সাল থেকে বার্সা যুবদলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন।
২০০৩ সালে যোগ দেন বার্সার অনূর্ধ্ব-১৬ দলে। এরপর বার্সা অনূর্ধ্ব-১৯, বার্সা সি দল এবং বার্সা বি দলের হয়ে খেলা সম্পন্ন করে ২০০৫ সালে ১ জুলাই থেকে বার্সার মূল দলে ঠাই হয় তার। এরপর থেকেই বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হন মেসি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি বার্সেলনার হয়ে ৭৩১ ম্যাচ খেলে ৬৩৪টি গোল করেছেন।