আত্মহত্যা প্রতিরোধে দৌড় প্রতিযোগিতা ঢাবিতে

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৯ PM
দৌড় প্রতিযোগিতা শুরুর আপেক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা।

দৌড় প্রতিযোগিতা শুরুর আপেক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা।

হতাশা, একাকিত্ব আর গ্লানি মানুষকে আত্মহত্যার মতো অপরাধে প্ররোচিত করে। অকালে হারিয়ে যায় সম্ভাবনাময় অনেক জীবন। তবে ইতিবাচক চিন্তা, সুন্দর মনোভাব পারে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে। আর এ ইতিবাচক মন ও মানসিকা বজায় থাকে নিয়মিত ব্যায়াম ও অনুশিলনের মাধ্যমে। সে বিষয়টি জানন দিতে সোমবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) ভিন্ন রকম এক কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করেছে ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) ও দ্য গ্রেট বাংলাদেশ রান (টিজিবিআর)।

‘জীবন বাঁচাতে দৌড়’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সংগঠন দুটি। সকাল ৬ টায় অপরাজেয় বাংলা পাদদেশ থেকে দৌড় প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়। এতে মোট ২৫০ জন দৌড় ও সাধারণ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। অনুষ্ঠানে নারী ও পুরুষ ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী রানারদের সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহনকারী সকল রানারকে সার্টিফিকেট দেয়া হয়।

এসব তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার সকল সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এ দেশের মানুষ দৃঢ় মনোবলের অধিকারী। সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে তারা আত্মহত্যার মতো নেতিবাচক প্রবণতা থেকে সহজেই বেরিয়ে আসতে পারে।  বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সবার আগে একটি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা জরুরী।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, বিশ্বে ও আমাদের দেশে আত্মহত্যা ও আত্মহত্যা প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। মৃত্যু ঘটছে অসংখ্য জীবন ও সম্ভাবনার। প্রতিবছর আত্মহত্যায় মৃতের সংখ্যা হত্যা ও যুদ্ধ মৃতের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর বিশ্বের শতকরা ৭৫ শতাংশ আত্মহত্যা হয় স্বল্পোন্নত ও অনুন্নত দেশগুলোতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে আত্মহত্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১০ হাজার এরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। অথচ মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারিবারিক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রসঙ্গত, ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত প্রায় ৪ বছর ধরে কাজ করে চলেছে। দেশের কিশোর - তরুণদের হতাশা, বিষন্নতা ও অন্যান্য নেতিবাচক প্রবণতা প্রতিরোধে সংগঠনটি বছরের বিভিন্ন সময়ে সচেতনতা কর্মশালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি আয়োজন করে আসছে। এছাড়াও সংগঠনটি ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ম্যাগাজিন প্রকাশের মাধ্যমে গণসচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন সুদক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কাউন্সেলন তৈরি ও হেল্পলাইন প্রতিষ্ঠায় প্রতীজ্ঞাবদ্ধ। অপরদিকে, ‘দ্য গ্রেট বাংলাদেশ রান’ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) তিন নম্বর লক্ষ্যমাত্রাকে সমর্থন করে সারাদেশে দৌড় ও অন্যান্য শারীরিক অনুশিলনকে জনপ্রিয় কাজ করছে। যার উদ্দেশ্য মাদকমুক্ত ও স্বাস্থ্যসচেতন একটি বাংলাদেশ গঠন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী, এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী নিশাত মজুমদার, ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী এবং আল কাদেরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম সুমন, বিটিএফ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান এবং টিজিবিআর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সামসুজ্জামান আরাফাত বক্তব্য রাখেন।

ছাত্রশিবির নেতার অপহৃত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে?
  • ১২ জুন ২০২৬
আইন-শৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপ খেলা প্…
  • ১২ জুন ২০২৬
স্বাস্থ্যখাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে স্ব…
  • ১২ জুন ২০২৬
পে স্কেল বাস্তবায়ন কেন জরুরি, জানালেন অর্থমন্ত্রী
  • ১২ জুন ২০২৬
শিক্ষা বাজেট অস্পষ্ট, বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই…
  • ১২ জুন ২০২৬
অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগ, প্রতিবাদ জানিয়ে প্…
  • ১২ জুন ২০২৬
×