হাদিস সম্বলিত দেয়ালিকা © সংগৃহীত
আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আরব-মুসলিম রাষ্ট্রে সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাতার বিশ্বকাপ। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটি। তারই অংশ হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শক ও ভক্তদের স্বাগত জানাতে দেশটির রাজধানী দোহাসহ বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছে মহানবী (সা.)-এর হাদিস সম্বলিত দেয়ালিকা।
কাতার সংবাদ মাধ্যম দোহা নিউজের অফিসিয়াল টুইটার একাউন্টে এসব দেয়ালিকার ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছবি ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
দেয়ালিকাগুলো প্রকাশের পরপরই বিশ্বব্যাপী বেশ প্রশসিংত হচ্ছে কাতার সরকার। অনলাইনে সক্রিয়রা বলছেন, এটি বিশ্ব দরবারে ইসলামকে ফুটিয়ে তোলার দারুণ ও উদ্ভাবনী একটি পদ্ধতি। এজন্য তারা কাতারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) টিআরটি ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ ভক্তদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরে অভিনব কায়দায় অভ্যর্থনা জানাতে এমন উদ্যোগ নেয় কাতার। তাই বিভিন্ন স্থানে দেয়ালজুড়ে সাঁটানো হয় বর্ণিল ম্যুরাল, ব্যানার ও ফেস্টুন। এতে লেখা হয় সামাজিক শিষ্টাচার বিষয়ক মহানবী (সা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী। আরবি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা অর্থপূর্ণ হাদিসগুলো চলার পথে দর্শক ও পাঠকদের মনে তৈরি করে অন্য রকম অনুভূতি।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রের নির্দেশনা মানেনি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
একটি দেয়ালে সাদা রঙের ওপর কালো বর্ণে দয়া-অনুকম্পা নিয়ে মহানবী (সা.)-এর একটি বাণী দেখা যায় যার অর্থ হলো, ‘অন্যের প্রতি দয়া করে না তার প্রতি দয়া করা হয় না’। অন্য স্থানে মহানবী (সা.)-এর আরেকটি বাণী দেখা যায় যার অর্থ হলো, ‘সব ভালো কাজই দান’।
দ্বিমুখী মানুষের পরিণতি নিয়ে একটি হাদিস দেখা যার অর্থ হলো, ‘তুমি কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তি হিসেবে দ্বিমুখী মানুষকে পাবে। সে একদলের কাছে এক রূপ নিয়ে আসে এবং অন্যদের কাছে অন্য রূপ নিয়ে আসে’।
আরেক স্থানে সালাম দেওয়ার শিষ্টাচার নিয়ে মহানবী (সা.)-এর একটি হাদিস দেখা যায় যার অর্থ, ‘ছোট বড়কে, পথিক বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক ব্যক্তি বেশি সংখ্যক ব্যক্তিদের সালাম দেবে’।
আতিথেয়তা ও সামাজিক শিষ্টাচার নিয়ে মহানবী (সা.)-এর আকেরটি প্রসিদ্ধ হাদিস দেখা যায় যার অর্থ হলো, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনের ওপর বিশ্বাস করে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনের ওপর বিশ্বাস করে সে যেন অতিথিকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনের ওপর বিশ্বাস করে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। ’
আরেক স্থানে বৃক্ষরোপন নিয়ে মহানবী (সা.)-এর একটি হাদিস দেখা যায় যার অর্থ হলো, ‘যদি কোনো মুসলিম গাছ রোপন করে, অতঃপর কোনো মানুষ বা প্রাণী তা থেকে আহার করে, তা সেই ব্যক্তির জন্য দানস্বরূপ’।