সন্তান দিয়ে নম্বর দেন পরীক্ষক, ৮৫ পেলে লিখে রাখেন ০৫!

০২ জুন ২০১৯, ১০:৫২ AM

এসএসসি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষার ফল শনিবার প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, অনেকে ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে, আবার কারো ফলে উন্নতি হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের অবহেলা এবং শিক্ষকদের উদাসীনতার শিকার হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক পরীক্ষার্থী। এদের কারণে প্রতি বছরই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভুল ফল মূল্যায়নের শিকার হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পরীক্ষার সঙ্গে একজন শিক্ষার্থীর সারাজীবনের সুখ-দুঃখ জড়িত। অবহেলা বা উদাসীনতার সঙ্গে পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাজ করা ঘোরতর অন্যায়। অনেক ভুলকে ‘মানবিক’ হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু কিছু ভুল ক্ষমার অযোগ্য। আমরা কঠিন ভুলের ক্ষেত্রে কঠোর হয়ে থাকি। এ নিয়ে একটি কমিটি আছে, যারা ভুলগুলো পর্যালোচনা করে থাকে। এবারের পুনঃনিরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থীর ফল উন্নয়ন হয়েছে, তাদের কেস পর্যালোচনা করে দায়-দায়িত্ব নিরূপণ শেষে উপযুক্ত শাস্তির জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাব।

তিনি স্বীকার করেন, কিছু পরীক্ষক আছে যারা সন্তানকে দিয়ে ওএমআর (মেশিন পাঠযোগ্য) ফরমে প্রাপ্ত নম্বরের বৃত্ত ভরাট করান। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাত্র ৮৫ পেলে বৃত্ত হয়তো ভরাট হয়ে থাকে ০৫। তখনই সমস্যা হয়। এ ধরনের মানুষ দায়িত্বশীল নন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুলভ্রান্তির অন্যতম কারণ হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে খাতা দেখা। কয়েক বছর ধরে যথাসময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল ঘোষণা করে সরকারি মহল থেকে কৃতিত্ব নেয়ার চেষ্টা চলে। এটা করতে গিয়ে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নাম প্রকাশ না করে একাধিক পরীক্ষক জানিয়েছেন, খাতা মূল্যায়ন করতে খুব কম সময় দেয়া হয়। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষক বলেন, বোর্ড থেকে দেয়া খাতা ১৪ দিনের মধ্যে জমা দিতে হয়। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৩০০ খাতা ঠিকমতো মূল্যায়ন সম্ভব। কিন্তু ৫০০ থেকে ৭০০ খাতা দেয়া হয়। এতেই ভুলের ঘটনা ঘটে থাকে, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়নও হয় না। এর খেসারত দিতে হয় শিক্ষার্থীদের।

এবার প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, ৯টি শিক্ষা বোর্ডে ২ হাজার ৩১৯ জন শিক্ষার্থীর রেজাল্ট পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৫ জন। বাকিদের জিপিএ বেড়েছে।

ফেল থেকে পাস করেছে ঢাকা বোর্ডে ১৪২ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ জন, বরিশালে ৪২ জন, সিলেটে ৩৩ জন, যশোরে ১৩১ জন, চট্টগ্রামে ৮০, দিনাজপুরে ৫৫ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডে ৪৪ জন। এর মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা বোর্ডে ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। যশোর বোর্ডে একজন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২ জন ও দিনাজপুরে ২ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রথম রেজাল্টে এরা ফেল করেছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম দফায় অনেকে ফেল বা কম জিপিএ পাচ্ছে। পরে ফল পুনঃনিরীক্ষায় ফেল থেকে পাস করছে, জিপিএ-৫ পাচ্ছে এমন নজির আছে। পরীক্ষা ও ফলকেন্দ্রিক এসব ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। ভুক্তভোগী ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে এসব নিয়ে ক্ষোভ আছে। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের সাফ জয়, জামায়াত আমির বললেন— ‘ওয়েলডান’
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’— স্লোগানে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদ…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
সাফজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে প্রধানমন্ত্রী তারেক …
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
রাজনীতির ইচ্ছা থাকলে শিক্ষকতা থেকে ইস্তফা দিয়ে আসুন: ডেপুটি…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নয়, মেয়েকে নিয়ে ইংরেজি সায়েন্স ফিকশন সিনে…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬