দিনের অর্ধেক চাকরি, কীভাবে জিপিএ-৫ পেল বুলবুল?

০৮ মে ২০১৯, ০৯:৫৯ PM
বুলবুল

বুলবুল © সংগৃহীত

স্কুলের অন্য দশজনের মতো নয় বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরের সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. বুলবুল হোসেন (১৬)। স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি তার কাঁধে রয়েছে গুরু দায়িত্ব। অসুস্থ বাবার স্থলাভিষিক্ত বুলবুল। পরিবারের খরচ বহনে যাকে রীতিমত সংগ্রাম করতে হয়। এতো কিছুর পরে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে বুলবুল।

বুলবুলের ভাষায়, আমার বাবা শারীরিকভাবে অসুস্থ। মা সেলাইয়ের কাজ করেন। কিন্তু তাতে আমাদের সংসার চলে না। তাই আমি পড়াশোনার ফাঁকে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করি। এর পাশাপাশি পড়াশোনা করি।

জানা যায়, উপজেলা সদরের ওয়েভ সিনেপ্লেক্সের পাশের একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকে বুলবুল। তার সঙ্গে থাকে বাবা-মা। বাবা মো. খলিলুর রহমান সরদার হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। বছর খানেক ধরে কোনো কাজ করতে পারেন না তিনি। আগে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগীদের সিরিয়াল লিখে কিছু অর্থ রোজগার করতেন। মা আলেয়া বেগম সেলাইয়ের কাজ করেন। কিন্তু তাতে তাদের সংসার চলে না। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ মান্নার মোবাইল ফোন বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘মান্না স্মার্ট’ গ্যালারিতে সেলসম্যান পদে চাকরি নেয় বুলবুল।

নিজের সংগ্রামের কথা জানিয়ে বুলবুল বলেন, এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার আগে বাবা-মা দুইজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একদিকে আমার পড়ার চাপ, সেলসম্যানের চাকরি-খুব কঠিন সময় গেছে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা যেমন সব বিষয়ে প্রাইভেট পড়ে, আমি তেমন সুযোগ পাইনি। সে সক্ষমতাও ছিল না আমার পরিবারের। পড়াশোনার জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমার অসহায় অবস্থা ও অতীতের ভালো ফলাফলের কথা জানতে পেরে সরকারি গৌরনদী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী প্রাইভেট পড়াতেন। বিনিময় কিছু দেয়া লাগতো না।

‘প্রতিদিন সকাল ৯টায় দোকানে যেতে হয়। রাত ৯টায় কাজ শেষ হয়। তবে বিদ্যালয়ে ক্লাস থাকলে সুযোগ দেয়া হতো। রাত ৯টার পর বাসায় ফিরে টানা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম। ভোরে ঘুম থেকে জেগে আবারও বই নিয়ে বসতাম। কখনো অলসতা করতাম না।’ বুলবুলের ভাষায় তার জীবনের গল্প।

‘আমার স্বপ্ন মানুষের মতো মানুষ হওয়ার। এজন্য আমি ডাক্তার হতে চাই। মানুষের সেবা করতে চাই। মা-বাবা ছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বন্ধু এবং দোকান মালিক আমাকে খুব অনুপ্রেরণা দেন, সহযোগিতা করেন— একটানা বলে গেলেন সংগ্রামী বুলবুল।

ট্যাগ: এসএসসি
অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের সাফ জয়, জামায়াত আমির বললেন— ‘ওয়েলডান’
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’— স্লোগানে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদ…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
সাফজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে প্রধানমন্ত্রী তারেক …
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
রাজনীতির ইচ্ছা থাকলে শিক্ষকতা থেকে ইস্তফা দিয়ে আসুন: ডেপুটি…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নয়, মেয়েকে নিয়ে ইংরেজি সায়েন্স ফিকশন সিনে…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬