ভোক্তভোগী শিক্ষার্থীরা © হাসিবুল হাসান
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবহেলায় ভোকেশনাল শাখার ২৩ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। এছাড়া, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে দাবীকৃত টাকা না দেওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তব প্রশিক্ষণের নম্বর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীরা। যার কারণে সব বিষয়ে পাস মার্ক এলেও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তব প্রশিক্ষণের বিষয়ে একই সাবজেক্টে ফেল মার্ক এসেছে সবার।
অভিযুক্ত নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের নাম আজহারুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল শাখায় ২৩ শিক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। গতকাল ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর সবাই ফেল করেছে বলে জানতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানতে তারা জানতে পারে যে, প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তব প্রশিক্ষণের বিষয়ে নম্বর বোর্ডেই জমা না দেওয়া হয়নি। যার কারণে ওইসব শিক্ষার্থী লেখায় পাশ করলেও প্রাক্টিক্যাল নম্বর না থাকায় বোর্ড তাদের অকৃতকার্য ঘোষণা করে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী রাজু, স্বাধীন, তারেক, আরিফুল, লিটনসহ অন্যরা অভিযোগ করে বলেন তাদের কাছ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তব প্রশিক্ষণের নম্বর দেওয়ার কথা বলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জন প্রতি আড়াইশ টাকা করে দাবি করলে তারা ওই টাকা না দেওয়ায় তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তব প্রশিক্ষণের নম্বর বোর্ডে পাঠানো হয়নি। যার কারণে আমাদের পূর্ণাঙ্গ নম্বর না থাকায় বোর্ড অকৃতকার্য দেখিয়েছে। তার বলেন, এছাড়া আমাদের পাঁচজনের কাছ থেকে ওই পরিমাণ টাকা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে সভাপতি বিষয়টি জানতে পেয়ে ওই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম টাকা নেওয়া বা চাওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তব প্রশিক্ষণের নম্বর বোর্ডে পাঠানোর জন্য শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই শিক্ষক ওই নম্বর বোর্ডে পাঠিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে বোর্ডে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে আমরা বিষয়টা শুনেছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।