বদলগাছি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। © টিডিসি ফটো
নওগাঁর জেলার বদলগাছি সদরে অবস্থিত দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সম্প্রতি ঘোষিত বদলগাছি (সরকারী) মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা দখল করে চলছে হাটবাজার। এতে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে।
গত বুধবার সকাল নয়টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় দুটির মাঠ ও রাস্তা দখল করে কাঁচা তরিতরকারির পাইকারী হাট বসিয়ে দেদারছে কেনা বেচা চলছে। দুর দূরান্ত থেকে আগত পাইকারেরা বড় বড় ট্রাক ও ভটভটি এনে স্কুল মাঠ দখল করে রেখে কাঁচামাল লোড-আনলোড করছে। সেই সাথে উপজেলার কৃষকেরা ট্রাক, ভটভটি ও ভ্যান যোগে কাঁচা তরিতরকারি ও বিভিন্ন মালামাল এনে ওই বাজারে বিক্রি করছে।
বদলগাছীর নতুন ব্রিজমোড় থেকে শুরু করে স্কুল মাঠ ও থানা গেট পর্যন্ত দখল করে সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার দুই দিন হাট-বাজার বসে। এই দুই দিন দুটি স্কুলের প্রায় সাড়ে ৯ শতাধিক শিক্ষার্থীর স্কুলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ভ্যান গাড়ি, ভটভটি, সাইকেল ও ট্রাক সহ লোকজনের ভিড়ের মধ্য দিয়ে এপাশ ওপাশ কাটিয়ে কোন রকমে স্কুলে যাতায়াত করেন।
সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিন্তু শিশু নয়। ছেলে শিক্ষার্থীরা ওই হাট-বাজারের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে ঠেলা ঠেলি করে স্কুলে যাতায়াত করে। কিন্তু মেয়ে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়ে যায়। এই কারণে অনেক অভিভাবকেরা হাট-বাজারের দিন তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে দিতে চায় না।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা চরম উদ্বিগ্ন হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। এমন কি থানা পুলিশের গেট পর্যন্ত দখল করে হাট-বাজার চললেও পুলিশ প্রশাসনেরও কোন মাথা ব্যথা নেই। অথচ বদলগাছি থানার রাস্তা ও গেট পর্যন্ত হাট-বাজারের দখলে থাকায় থানা প্রশাসন কিছুটা হুমকির সম্মুখীন বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন।
এ বিষয়ে মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি তার স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের হাট-বাজারের দিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে জানান। তিনি আরো জানান, আমার স্কুলের গেটের সামনে হাঁস-মুরগীর হাট বসায় বাচ্চাদেরকে নিয়ে দুর্গন্ধের মধ্যেই ক্লাস চালিয়ে যেতে হয়। বিষয়টি নিয়ে বহুবার হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করেও কোন লাভ হচ্ছে না। কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষের চেয়ে হাট-বাজার কর্তৃপক্ষ শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরেশ সিংহের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি জানান, ইতি পূর্বে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ, মানব বন্ধন ও হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে তৎকালীন এমপি আকরাম হোসেন চৌধুরী একাধিকার দেন-দরবার ও চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। ফলে বিষয়টি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ কয়েকবার স্কুল মাঠ থেকে হাট-বাজার উচ্ছেদের জন্য লিখিত ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করেও কোন ফল হয়নি। তিনি আশা করেন বিষয়টি এখন সরকারে স্থানীয় প্রশাসন সহ শিক্ষামন্ত্রনালয় সুদৃষ্টি দিয়ে স্কুল মাঠ থেকে হাট-বাজার উচ্ছেদ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত, খেলাধুলা ও বিনোদন সহ নিরবচ্ছিন্ন পাঠ দানের উপযোগী করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
থানার সামনে রাস্তা থেকে শুরু করে গেইট পর্যন্ত হাট-বাজার চলা প্রসঙ্গে বদলগাছি থানার ওসি জালাল উদ্দিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাট-বাজারের দিন স্কুল মাঠ ও থানার সামনে গেট সংলগ্ন হাট-বাজার বসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হাট ইজারাদারদের একাধিকার নিষেধ করা হয়েছে। থানার গেট পর্যন্ত হাট-বাজার চলায় হাটের দিন থানার প্রয়োজনে কোন গাড়ি বের করতে পারিনা। তবে আমি হাট কমিটিকে বলেছি থানার যেটুকু জায়গা রয়েছে তা দু’এক দিনের মধ্যে বাঁশ দিয়ে ঘিরে নেব।
এ বিষয়ে হাট কমিটির মুল ইজারাদার পত্নীতলা থানার ডাসনগর গ্রামের শরিফুল ইসলাম ও সাব- ইজারাদার বদলগাছি সদরের জামিল বাজারটি পরিচালনা করেন। তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, প্রতিবৎসর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কিছু টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে স্কুল মাঠে হাট চালান। তবে বর্তমানে স্কুলটি সরকারী হওয়ার পর কোন আর্থিক লেনদেন করা হয়না।
হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরেস সিংহ বলেন, আমি তাদের কাছে থেকে এক কাপ চায়ের টাকা ও নেই না। এটা যদি বলে থাকে তাহলে ভুল কথা বলেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগের সাথে যোগাযোগ করা হলে স্কুল মাঠে হাট-বাজার বসায় শিক্ষার্থীদের চলাচলের যে সমস্যা সৃষ্টি হয় বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, হাট স্থানান্তর করতে যে জায়গার প্রয়োজন সে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু কোন ফল হচ্ছে না। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাট স্থানান্তরের ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন সে মোতাবেক সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।