প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

৩০ আগস্ট ২০২০, ০৯:২৯ AM

© ফাইল ফটো

চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে কওমি মাদ্রাসা ছাড়া সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মহামারির কারণে এই দীর্ঘ ছুটি ফলে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এদের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষাবর্ষ শেষ করে দেওয়ার কথা বলছেন কেউ কেউ। আবার কেউ বলছেন সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে পরীক্ষা নেওয়া কিংবা শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর কথা।

রাজধানীর মালিবাগের একটি স্কুলে পড়ুয়া চতুর্থ শ্রেণির সাকিয়া করিম রাকা। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ঘরবন্দি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস। স্কুলের শিক্ষকরা জুন মাসে অনলাইনে ক্লাস নিয়েছিলেন কয়েক দিন। কিন্তু নানা জটিলতায় তা বেশিদিন চলেনি। বছর শেষ হতে বাকি আর চার মাস, এখন রাকার পঞ্চম শ্রেণিতে কী আদৌ ওঠা? তাকে কি বার্ষিক পরীক্ষা দিতে হবে? বছরের অর্ধেকই যেখানে ক্লাস হলো না, বাসায় বসে থেকে পড়ালেখাও সেভাবে হলো না, ও পরীক্ষা দেবে কীভাবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমন বন্ধ থাকায় বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে রাকার বাবা-মায়ের মতোই উদ্বিগ্ন প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

একই তো অভিভাবকদের অনেকে পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষাবর্ষ শেষ করে দেওয়ার কথা বলছেন তাদের কেউ কেউ। আবার কেউ বলছেন সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে পরীক্ষা নেওয়া কিংবা শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর কথা। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা আসতে যত দেরি হবে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি তত বাড়বে বলে ভাবছেন কেউ কেউ।

চলতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে বছরের বাকি থাকবে তিন মাস। পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবার কেন্দ্রীয়ভাবে না নিয়ে স্কুলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত স্কুল কর্তৃপক্ষই নেবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন।

গত ২৫ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের জন্য তিনটি পাঠ পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছিল জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে (নেপ)। এখন সেপ্টেম্বরে যেহেতু স্কুল খুলছে না, অক্টোবর ও নভেম্বর সামনে রেখে যে পাঠ পরিকল্পনা হয়েছে, তার ভিত্তিতে প্রতিটি স্কুল প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার জন্য প্রশ্নপত্র করে পরীক্ষা নেবে।

কিন্তু অভিভাবকদের মতো স্কুলগুলোর কর্তৃপক্ষও রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। তারা বলছেন, সরকারের নির্দেশনা পেলে স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের তারা সব জানিয়ে দেবেন।

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন, অনলাইনে ক্লাস করে পড়া ১ বুঝতে ছেলেমেয়েদের সমস্যা হচ্ছে। বনশ্রীর কসমো স্কুলের ইংরেজি ভার্সনে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে ইয়াসিন আহমেদ। তার মা সালমা আহমেদ হীরা জানান, স্কুল থেকে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে।

তিনি জানান, ‘ইংরেজি ভার্সনে বোঝানোটা খুব কঠিন। সব বাবা-মায়ের পক্ষে বাচ্চাদের সেটা ঘরে পড়ানো সম্ভব না। আর এই সময়টায় বাসায় গৃহশিক্ষকও আনা যায় না। ফলে বাচ্চাদের ক্ষতি হচ্ছে বেশি। আমার উদ্বেগের একটা বড় কারণ হলো, আমার ছেলেটার যে বেইজটা তৈরি হতো, তার ৫০ শতাংশও তৈরি হবে কিনা জানি না। এই বছরটায় তো সমস্যা হবেই।' সালমা আহমেদ হীরা নিজে শান্তিনগরের গোল্ডেন এরা কিডস স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

তার মতে, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা আসতে যত দেরি হবে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি তত বাড়বে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যা জানানো হচ্ছে, তাতে আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। কখনো বলা হচ্ছে পরীক্ষা হবে, কখনো বলা হচ্ছে নাও হতে পারে। আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। বাচ্চাদের একটা পরীক্ষা তো নিতে হবে, সেটা কীভাবে হবে, সেটার সিলেবাস কেমন হবে, সেইভাবে কিন্তু আমাদের নির্দেশনা দেওয়া দরকার।

এদিকে সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তামিমের মা নূরজাহান বেগম শিলা জানান, অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা সবই চলছে, কিন্তু এই বছরটায় তার ছেলের মতো সবাইকেই যে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে তা তিনি বেশ বুঝতে পারছেন।

তিনি জানান, সরাসরি যেভাবে পড়ালেখাটা হয়, সেটা তো অনলাইনে সম্ভব হচ্ছে না। ইন্টারনেটের সমস্যা থাকে অনেক সময়, আবার কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটাও জানা সম্ভব হচ্ছে না। যতটুকু পারছি, বাসায় পড়ানোর চেষ্টা করছি। অভিভাবকদের উদ্বেগ আর প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান বলেছেন, বার্ষিক পরীক্ষার এখনো অনেক দেরি আছে, তাই কোনো সিদ্ধান্ত তারা এখনো নেননি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনাও আমরা পাইনি, আমরা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি, শিট দিচ্ছি। সিলেবাস নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার শুধুমাত্র মন্ত্রণালয়ের, বোর্ড বা সরকারের। আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। সেপ্টেম্বরে ভিকারুননিসায় প্রথম থেকে নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক এবং দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও স্কুল খোলার অনুমতি না মেলায় তা বাতিল করা হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ।

এছাড়া ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম সাময়িকের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা ও দ্বিতীয় সাময়িকের মডেল টেস্টও নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। প্রতিটি শ্রেণির মূল টপিকগুলো বাছাই করে তা অনলাইনে দিয়ে দিয়েছি ক্লাস করার জন্য। আশা করছি আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ ৫ মাস ধরে দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বন্ধের মেয়াদ বাড়ানোর সাথে সাথে এবছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

বিএনপি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানোর চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
অবসর বার্তায় যা বললেন রোনালদো
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শক্তিশালী নায়িকার কারণে কারও যেন চরিত্র হনন না হয়
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা মেডিকেলে দুদক চেয়ারম্যানের অভিযান, বললেন— রোগীরা অনেক …
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
জাহাজের পতাকা জাল করে ইরানকে সহায়তা, ভারতীয় দম্পতির বিরুদ্ধ…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনালদোর
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950