দেড় যুগ ধরে নেই ইসলাম ধর্মের শিক্ষক, অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী বঞ্চিত ধর্মীয় শিক্ষা থেকে

১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ PM
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় © সংগৃহীত

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে কোনো মুসলিম বা ইসলাম ধর্মের শিক্ষক না থাকায় ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। একই ধরনের সংকট রয়েছে উপজেলার আরও কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে ১৫৪ জন মুসলিম শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৬ শতাংশ। অথচ প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ে কর্মরত পাঁচজন শিক্ষকের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের। ফলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে নিয়মিত পাঠদানের জন্য কোনো শিক্ষক না থাকায় মুসলিম শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হচ্ছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের নিয়মিত কোনো ক্লাস হয় না। ফলে জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলো শিক্ষকের সহায়তা ছাড়াই বাড়িতে পড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাদের। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ ও সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ধর্মীয় শিক্ষার মৌলিক জ্ঞান অর্জনেও তৈরি হচ্ছে ঘাটতি।

বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইচিং মারমা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও বেশ বিব্রত। বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম। দীর্ঘদিন ধরে তারা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক বেলাল আহমদ বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ধর্মীয় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো শিক্ষার্থী যেন এ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য দ্রুত একজন যোগ্য ইসলাম ধর্মের শিক্ষক পদায়ন করা জরুরি।

এদিকে বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইসলাম ধর্মের শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, শুধু ফাইতং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, উপজেলার গজালিয়া হেডম্যান পাড়া ও রাজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিক্ষক পদায়নের মাধ্যমে দ্রুত এ সংকটের সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ফাইতং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক পদায়ন করবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।

বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা বিপদে—গতকালই ইশরাকের কাজকে বাহাবা দি…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
‘আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও, স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’, সেই…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সাদা শার্ট ও নেতাকর্মীদের জন্য মেসেজ
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শেখ হাসিনার সময় তাফসির মাহফিলে বাধা দেওয়া হত, আজও কেন?
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
পদত্যাগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার না করলে আইনানুগ ব্যব…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার সংবাদটি অসত্য ও ভি…
  • ১৮ অক্টোবর ২০২৬