ইন্টারনেট না থাকলেও বিল পাস, প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ‘ঘুষ দাবি’

০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৯ AM
গৌরিপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়

গৌরিপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ১৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকর ইন্টারনেট সেবা না মিললেও এক বছরের ইন্টারনেট বিল ছাড় করা হয়েছে। সেই বিল উত্তোলনের জন্য বিদ্যালয় প্রতি এক হাজার টাকা করে দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিল ছাড় এবং ট্রেজারিতে প্রক্রিয়াকরণের কথা বলে বিদ্যালয়প্রতি এক হাজার টাকা করে দাবি করছেন গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শিক্ষকদের দাবি, যে সেবা বাস্তবে পাওয়া যায়নি, সেই সেবার বিল পরিশোধ এবং বিল উত্তোলনের নামে অর্থ দাবির বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

জানা গেছে, উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৪টিতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭৬টি বিদ্যালয়ে এডিএন টেলিকম এবং ৯৮টি বিদ্যালয়ে গ্রামীণফোনের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়ার চুক্তি করা হয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য মাসিক ইন্টারনেট বিল নির্ধারণ করা হয় এক হাজার টাকা।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের ইন্টারনেট বিল সম্প্রতি ছাড় করা হয়েছে। বরাদ্দের অর্থ উপজেলা শিক্ষা অফিসের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, অনেক বিদ্যালয়ে শুধু রাউটার স্থাপন করা হলেও কার্যকর ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যায়নি। কোথাও কয়েক দিন সংযোগ সচল থাকার পর তা বন্ধ হয়ে যায়, আবার অনেক বিদ্যালয়ে একদিনও ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

তাদের অভিযোগ, বিল উত্তোলনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সহায়তা এবং দ্রুত অর্থ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিদ্যালয়প্রতি এক হাজার টাকা করে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

গাভীশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন চঞ্চল বলেন, শুরুতে কিছুদিন গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া গেলেও ২০২৫ সালের শেষ দিকে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সংযোগ সচল হয়নি।

এডিএন টেলিকমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহাগ বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁদের প্রতিষ্ঠান কোনো বিল পায়নি। বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিল পরিশোধ করা হলে পুনরায় সেবা চালু করা হবে।

টেলিওয়ে কমিউনিকেশন স্থানীয়ভাবে বিজয় আইটিকে ইন্টারনেট সেবা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। বিজয় আইটির স্থানীয় ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালে প্রথম ধাপে পৌর এলাকার ২০টি বিদ্যালয় এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৫৪টি বিদ্যালয়ে সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু সংযোগ চালুর পর থেকে কোনো বিল পরিশোধ না হওয়ায় সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম মাজহারুল আনোয়ার ফেরদৌস বলেন, তিনি কোনো শিক্ষকের কাছে টাকা চাননি। এ বিষয়ে কোনো বৈঠকও হয়নি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে শুধু আলোচনা হয়েছে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার রহমান বলেন, গত জুন মাসেই ইন্টারনেট বিলের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তার দপ্তরের নাম ব্যবহার করে কেউ অর্থ আদায় করছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত বলেন, পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সেবা না পাওয়ার অভিযোগের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে প্রধান শিক্ষকদের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে  বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বিল উত্তোলনের নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্র অর্থ দাবি করছে বলে তার জানা নেই।

বাড়িতে ঢুকে মডেল মুসকানকে কুপিয়ে হত্যা
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটিতে ফ্রেশার্স ওরিয়…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
জিম থেকে বের হতেই একের পর এক গুলি, প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় গা…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির …
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
ওয়ালটন প্লাজা নিয়োগ দেবে ২০০ ডেপুটি ম্যানেজার, আবেদন ১০ সেপ…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
পূর্বশত্রুতার জেরে ধানক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬