সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বন্যার ক্ষত © টিডিসি ছবি
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার ক্ষত কাটিয়ে আবারও পাঠদান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। বন্যায় প্লাবিত হওয়া ৮৬টি বিদ্যালয়ে এখন চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনাশক ছিটানো ও শিক্ষা উপকরণ গোছানোর কাজ। ইতোমধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হলেও তিনটি বিদ্যালয়ে এখনো পানি না নামায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম এবং বিভিন্ন খালের পাড় ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৬টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় কয়েকদিন পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়।
সরেজমিনে বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া পাড়া ও বড়দুয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমে থাকা কাদা, আবর্জনা ও পলিমাটি অপসারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বেঞ্চ, শিক্ষাসামগ্রী, অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। বন্যার পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বড়দুয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমা মজুমদার বলেন, বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদানের অনুপযোগী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা গত পাঁচ দিন ধরে বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এখন পানি নেমে যাওয়ায় দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে শীঘ্রই পাঠদান শুরু করা হবে।
তেমুহানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলী লতা বড়ুয়া বলেন, আমাদের বিদ্যালয় থেকে এখনো পানি নামেনি। সেজন্য আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার ১৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৬টি বিদ্যালয় প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩টি বিদ্যালয় ব্যতিত অন্যান্যগুলোতে পাঠদান শুরু হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার করা হয়নি। আমরা এসব ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছি।