আতঙ্কে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬শ শিশু!

০৫ জুলাই ২০১৯, ১২:২৪ PM

বিদ্যালয়ের ভবন ধসের আতঙ্ক, শ্রেণিকক্ষের তীব্র সঙ্কট, প্রতিদিন ছাদের প্লাস্টার ও খোয়া ভেঙে পড়ছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এটি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদ বহুলী ইউনিয়নের ১০৯নং চর কালিদাসগাঁতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র।

বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা ও টিনশেড ঘরও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের। অপরদিকে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয় অভিভাবকদের। স্কুলের শিক্ষকেরা দায়িত্ব পালন করলেও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজ করছে ছাদ ধসের আতঙ্ক।

এই বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা সারাদিন ৬শ শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। জানা গেছে, ১৯২১ সালে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ব্যক্তিদের উদ্যোগে ৩৩ শতাংশ জায়গার ওপর চর কালিদাসগাঁতী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণায় স্কুলটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯২ সালে একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল সেটির অবস্থায় খুবই নাজুক। গত কয়েক বছর যাবত এই ভবনে শিক্ষাক্রম পরিচালনা বন্ধ রয়েছে।

২০০৩ সালে একটি ৪ কক্ষের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন ছাদের প্লাস্টার ও খোয়া ভেঙে পড়ছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬শ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এখানে ১৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ১৪ জনের ১২ জন নারী শিক্ষিকার জন্য নেই বসার কক্ষ। এমনকি টয়লেট পর্যন্ত নেই। দ্বিতল ভবনে মাত্র ১টি টয়লেট রয়েছে। সেটিও ব্যবহার অনুপযোগী। নারী শিক্ষকরা পাশের বাড়িতে গিয়েই জরুরি কাজ সেরে নিতে হয়। আসবাবপত্রের সংকট তীব্র। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের বসার বেঞ্চের অভাব তীব্র।

চর কালিদাসগাঁতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জরাজীর্ণ ভবনটি নিয়ে তিনি দুঃশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে স্কুলে আসেন। কখন ছাদ ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় শিক্ষক শিক্ষিকারা দুরু দুরু মনে ক্লাস নিয়ে থাকেন। এই বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো নিয়ে বারবার চিঠিপত্র দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। কর্তৃপক্ষ কেন এই স্কুলের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তাও বুঝতে পারছি না।

বহুলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ার পরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা পাঠদান করছে। স্কুল ভবনের অবস্থা বহু বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত অন্যকোন নিরাপদ স্থানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর অনুমতি এবং ব্যবস্থা নেয়া নৈতিক দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুল ভবনটি ধসে পড়বে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আপেল মাহমুদ বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ স্বীকার করে বলেন, ওই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো আছে। আশা করছি শিগগিরই ভবন বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

'ফিলিপনগরের হামলা প্রমাণ করে বিএনপি ইন্টেরিম ২.০ হিসেবে দেশ…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
চাপের মুখে হতাশ না হতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের …
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ভাল ডাক্তার তৈরিতে বেসরকারি মেডিকেল সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন ক…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
মব-সহিংসতার মাধ্যমে মাজার ভাঙচুর ও হত্যার ঘটনায় এনসিপি'র নি…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
কম্বলে মোড়ানো মাথাবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে নেইমারকে দুই মাসের আল্টিমেটাম আনচেল…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close