অনশনরত বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্য থেকে বাদপড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে সোমবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দিনের কর্মসূচি পালিত হয়। রোদ-বৃষ্টিতে ফুটপাতে টানা অবস্থানের কারণে এ পর্যন্ত ৬০ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিরে যাবে না বলেও হুশিয়ারি দেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এমন নার্য্য অধিকার এবং যৌক্তিক দাবি না মানায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষও। আজ সোমবার চলমান আন্দোলনের ১৭দিন পূর্ণ হলো। তবুও পিছু হঠতে রাজি নয় কেউ।
সোমবার বিকেলে সমিতিরি সভাপতি মামুনুর রশিদ খোকনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জাফর ইকবাল, অহিদুজ্জামান, বিলকিস, খাদিজা আক্তার বকুল, রবিন সরকার, জুয়েল মিয়া প্রমুখ। আন্দোলনে একাতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ এডিটরস ফোরামের সাধারন স¤পাদক রফিকুল আনোয়ার, বেসরকারি শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা সফিকুল ইসলাম দুলাল প্রমুখ।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে সম্মতি জানাতে গিয়ে রফিকুল আনোয়ার বলেন, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের মতো বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরাও সমভাবে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখছেন। সরকারি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সরকার প্রদান করলেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের একদেশে দুই আইন মেনে নেয়া যায় না। তিনি অনতিবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষকদের দাবি এবং বাদ পড়া বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান।
বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। জাতীয়করণকালীন ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয় পরিসংখ্যান করা হয়েছিল। এ সংখ্যা যথাযথ না হওয়ায় জাতীয়করণ যোগ্য আরও ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ হতে বঞ্চিত হয়। তারা আরও বলেন, তৃতীয় ধাপের বিদ্যালয় সমূহের ক্ষেত্রে ২৭ মে ২০১২ তারিখের পূর্বে স্থাপিত ও পাঠদানের অনুমোতির জন্য আবেদনকৃত বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় উল্লেখিত তৃতীয় ধাপের বিদ্যালয়গুলোর সমপর্যায়ের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন কিছু কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থাকায় বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এদিকে আন্দোলন চলাকালিন সময়ে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
ক্যাপশান : অনশনরত বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবির প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আনোয়ার