স্কুল মাঠ থেকে মাটি তুলে শিশু পার্ক, সমালোচনা

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:১৪ PM
স্কুল মাঠের মাটি খননের ফলে তৈরি গর্ত

স্কুল মাঠের মাটি খননের ফলে তৈরি গর্ত © সংগৃহীত

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একপাশের মাটি কেটে অন্যপাশে শিশু পার্ক নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। স্কুলমাঠের মাটি খুড়ে গর্ত করায় বাচ্চাদের জন্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বয়ং উপস্থিত থেকে এ কাজ করিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠের মাটি কেটে অন্যত্র ফেলা হয়। স্থানীয় প্রতিনিধি চেয়ারম্যান, ইউএনও দাঁড়িয়ে থেকে স্কুলের মাঠ থেকে মাটি তুলে স্কুলের আরেকটি খাল ভরাট করেছেন। এতে স্কুলের মাঠে কয়েক ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেই গর্তে পানি জমে গেছে যা স্কুলের বাচ্চাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা আঙ্গুর হোসেন বলেন, ’কোনো রকম নোটিশ বা জানানো ছাড়াই মাঠে বিশাল গর্ত খোঁড়া হয়েছে। স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চারা যেকোনো সময় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।‘

স্থানীয় যুবদল নেতা মোঃ শামিম বলেন, ’গভীর গর্তে ইতোমধ্যে দুই শিশু পড়ে গিয়েছিল। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সহায়তায় তারা রক্ষা পেলেও ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ের ভবনও ঝুঁকির মধ্যে আছে।‘

দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষকও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আফতাব উদ্দিন জানান, ‘আমি ইউএনও স্যারকে বলেছিলাম ,এখান থেকে মাটি না তুলে অন্য জায়গাতে মাটি আনলে ভালো হয়। তখন তিনি বলেন, আমি আপনাকে বলছি যে এখানে পরবর্তীতে মাটি ভরাট করে দিব। তাহলে আপনার সমস্যা কোথায়?'

কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজগর আলী বলেন, আমাকে চেয়ারম্যান বলেছিলেন সরকারি কাজের জন্য এখানে মাটির তোলা লাগবে, আমি তাকে বলেছিলাম এখান থেকে না নিয়ে অন্য জায়গা থেকে ব্যবস্থা করার জন্য। তবে তিনি আমার কথা শুনেননি। তিনি ইউএনও কথা বলে এখান থেকে মাটি তোলার কথা বলেছেন। তারপরও তিনি এখান থেকে মাটি তুলেছেন, আর প্রথমে আমি জানতাম জায়গাটায় গভীরতা কম হবে কিন্তু পরে পরে দেখলাম জায়গাটা বেশি গভীরতা হয়ে গেছে যার ফলে আমার প্রতিষ্ঠান একটু হলেও বিপদজনক অবস্থায় আছে।

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলাম (ভোলা) বলেন, ‘আমরা স্কুলের জায়গায় শিশু পার্ক নির্মাণ করছি। বন্যার কারণে মাটি না পাওয়ায় স্কুল মাঠ থেকেই মাটি তোলা হয়েছে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেই কাজ করেছি। পরে জায়গাটা আবার ভরাট করে দেওয়া হবে।‘

গোদাগাড়ী উপজেলার ইউএনও মোঃ ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘বন্যার কারণে নির্ধারিত জায়গা থেকে মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই স্কুল মাঠ থেকে মাটি নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প শেষ হলে সেই স্থান পুনরায় ভরাট করা হবে। চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।‘

 

 

৭ দিনের মধ্যে প্রতিস্থাপন হচ্ছেন ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
কারিগরির ২১৮ জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টরের গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ, …
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ জেলের নাম
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে আহছানিয়া মিশন মেডিকেল …
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
পদত্যাগ করলেন পিএসসি চেয়ারম্যান
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬