মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে সরকারকে আইনি নোটিশ

মেডিকেলের ফল
লিগ্যাল নোটিশ  © ফাইল ফটো

২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল বাতিল ও সংশােধনপূর্বক নতুন মেধা তালিকা প্রণয়ন করে মেডিকেল কলেজগুলােতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য সরকারকে আইনি নােটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ মে) ২৪৮ জন পরীক্ষার্থীর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মােহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মােহাম্মদ কাওছার ইমেইল ও কুরিয়ার যােগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে ফল পুনঃনিরীক্ষণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম রাসেল সিদ্দিকী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৪ এপ্রিল প্রকাশিত ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ফলাফলে অসংখ্য ভুল এবং বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত ৭.০২.২০২১ ইং তারিখে প্রচারিত ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী একজন পরীক্ষার্থী কোন মেডিকেল কলেজে ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনি যদি দ্বিতীয় বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তবে তার মােট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৭.৫ নম্বর কর্তন করা হবে। আবার কোন পরীক্ষার্থী যদি গত বছর এইচ এস সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকে তাহলে তার ৫ নম্বর কাটা যাবে। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফল থেকে দেখা যায় অনেক পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই এই নিয়মটি পালন করা হয়নি।

যেসব পরীক্ষার্থীদের ৭.৫ নম্বর কর্তন করার কথা সেখানে মাত্র ৫ নম্বর কর্তন করা হয়েছে। ফলে ওইসব ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ২.৫ নম্বর বেশি দিয়ে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। আবার প্রথমবার পরীক্ষায় যেখানে কোন নম্বর কাটবার কথা নয় সেখানে অনেক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকেই ৫ নম্বর কর্তন করে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এবারের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বাের্ড কর্তৃক অনুমােদিত পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী অন্তত দুটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর ছিল দুটি করে। সেই সাথে অন্তত তিনটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর ছিলনা। সংরক্ষিত জেলা ও উপজাতি কোটার আসন পূরণেও ব্যাপক অসঙ্গতি করা হয়েছে। ঢাকা জেলা কোটা আবেদনকারী পরীক্ষার্থীকে দেখানাে হয়েছে মেহেরপুর জেলার পরীক্ষার্থী হিসেবে। উপজাতি কোটায় সংরক্ষিত আসনে অসংখ্য সাধারণ ছাত্র ছাত্রী কে নির্বাচিত করা হয়েছে। এসব ত্রুটি ও অসংগতি রেখে মেধা তালিকা প্রণয়ন করার ফলে হাজার হাজার যােগ্য ও মেধাবী পরীক্ষার্থী মেডিকেল কলেজগুলােতে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার মুখে পড়েছেন।

এসব কারণে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে এবং এসব ত্রুটি ও অসংগতি সংশােধন করে নতুন মেধা তালিকা প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরােধ করলেও দৃশ্যমান কোনাে পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বরং ত্রুটিপূর্ণ মেধাতালিকায় ভিত্তিতেই মেডিকেল কলেজগুলােতে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে আগামী ২২ মে ২০২১ ইং তারিখ হতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে ত্রুটিপূর্ণ মেধা তালিকার ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজগুলােতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানাের অর্থই হলাে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা। তাদের আজীবন লালিত আকাঙ্ক্ষা চিকিৎসাকে পেশা হিসাবে গ্রহন করা থেকে বঞ্চিত করা। সেইসাথে দেশের সামগ্রিক জনগােষ্ঠীকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া, যা বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ৩২ ও ৪০ এর পরিপন্থী।

নােটিসে আগামী তিন দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ত্রুটিপূর্ণ মেধা তালিকার ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা এবং ত্রুটিপূর্ণ মেধা তালিকা বাতিল করে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ পূর্বক নতুন মেধা তালিকা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ